বর্তমান ব্যস্ত জীবনে কোমর, ঘাড় বা মেরুদণ্ডের ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, ভুল ভঙ্গিতে চলাফেরা বা বার্ধক্যজনিত কারণে মেরুদণ্ডের ডিস্কের সমস্যা বা PLID (Prolapsed Lumbar Intervertebral Disc) এখন ঘরে ঘরে। এই সমস্যায় আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষই একটি বড় আতঙ্কে থাকেন— “মেরুদণ্ডে কি তবে অপারেশন লাগবে?”।
এই ভীতি দূর করতেই বাংলাদেশে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করছেন ডাঃ মোঃ শফিউল্লাহ প্রধান। তার হাত ধরেই অসংখ্য রোগী আজ অপারেশন ছাড়াই সুস্থ জীবনে ফিরেছেন।
মেরুদণ্ডের ব্যথা কেন হয়?
আমাদের মেরুদণ্ডের হাড়গুলোর মাঝে এক ধরণের জেলি সদৃশ ‘ডিস্ক’ থাকে যা শক-অ্যাবজর্বার হিসেবে কাজ করে। যখন এই ডিস্কটি কোনো কারণে ফেটে যায় বা বের হয়ে আসে এবং পাশের স্নায়ুর (Nerve) ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তখন তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। একেই আমরা পিএলআইডি বা ডিস্ক প্রলাপস বলি। এর ফলে কোমর থেকে ব্যথা পায়ের দিকে ঝিনঝিন করে নেমে যায়, পা ভারী হয়ে আসে এমনকি দীর্ঘস্থায়ী পঙ্গুত্বও দেখা দিতে পারে।
অপারেশন ছাড়াই সমাধান: পিএলডিডি (PLDD) পদ্ধতি
একটা সময় ছিল যখন এই সমস্যার একমাত্র সমাধান ছিল ওপেন সার্জারি বা মেরুদণ্ড কেটে ফেলা। কিন্তু ডাঃ মোঃ শফিউল্লাহ প্রধান বাংলাদেশে পিয়নিয়ার হিসেবে প্রবর্তন করেছেন Percutaneous Laser Disc Decompression (PLDD)।
এটি কীভাবে কাজ করে? এই পদ্ধতিতে কোনো বড় কাটছেঁড়া ছাড়াই একটি বিশেষ সরু নিডল বা সুঁইয়ের মাধ্যমে ডিস্কের ভেতর লেজার ফাইবার প্রবেশ করানো হয়। এরপর লেজার রশ্মির মাধ্যমে ডিস্কের ভেতরের বাড়তি চাপ কমিয়ে ফেলা হয়। ফলে নার্ভের ওপর থেকে চাপ সরে যায় এবং রোগী তাৎক্ষণিক ব্যথা থেকে মুক্তি পান।
কেন পিএলডিডি (PLDD) চিকিৎসা বেছে নেবেন?
প্রথাগত সার্জারির তুলনায় এই পদ্ধতিটি বেশ কিছু কারণে সেরা: ১. কোনো রক্তপাত নেই: এটি একটি নন-সার্জিক্যাল পদ্ধতি, তাই শরীরে কোনো ক্ষত বা দাগ থাকে না। ২. দ্রুত রিকভারি: এই চিকিৎসা নেওয়ার ২-৩ ঘণ্টার মধ্যেই রোগী নিজের পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরতে পারেন। কোনো দীর্ঘমেয়াদী বেড রেস্টের প্রয়োজন হয় না। ৩. অ্যানেস্থেশিয়ার ঝুঁকি নেই: রোগীকে পুরোপুরি অজ্ঞান করার প্রয়োজন পড়ে না, শুধুমাত্র আক্রান্ত স্থানটি অবশ করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ৪. পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন: সার্জারির ক্ষেত্রে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার যে ভয় থাকে, লেজার চিকিৎসায় সেই ঝুঁকি নেই বললেই চলে।
ডাঃ শফিউল্লাহ প্রধানের বিশেষত্ব
লেজার স্পাইন অ্যান্ড পেইন সেন্টারের চেয়ারম্যান হিসেবে ডাঃ শফিউল্লাহ প্রধান গত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই ক্ষেত্রে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তার অধীনে হাজার হাজার রোগী লেজার এবং ওজোন থেরাপির মাধ্যমে সুস্থ হয়েছেন। তিনি মনে করেন, “অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের ব্যথার জন্য বড় কোনো অপারেশনের প্রয়োজন নেই; আধুনিক ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিনের মাধ্যমেই সুস্থ হওয়া সম্ভব।”
উপসংহার
ব্যথাকে অবহেলা করা মানে রোগকে আরও জটিল করে তোলা। আপনি যদি দীর্ঘদিন ধরে মেরুদণ্ড বা জয়েন্টের ব্যথায় ভুগে থাকেন এবং অপারেশনের ভয়ে চিকিৎসা না নিয়ে থাকেন, তবে আজই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। আধুনিক লেজার চিকিৎসা আপনার জীবনকে আবার সচল ও আনন্দময় করে তুলতে পারে।
