গিট বাত-গাউট-গাউটি আর্থ্রাইটিস ও জোড়া প্রদাহ

গিট বাত-গাউট-গাউটি আর্থ্রাইটিস ও জোড়া প্রদাহ

গিট বাত-গাউট-গাউটি আর্থ্রাইটিস ও জোড়া প্রদাহ

গিট বাত-গাউট-গাউটি আর্থ্রাইটিস ও জোড়া প্রদাহ

গিট বাত বা গাউট হচ্ছে একটি প্রদাহজনিত রোগ; এতে সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি ও এর আশেপাশের টিস্যুতে মনোসোডিয়াম ইউরেট মনোহাইড্রেট ক্রিস্টাল জমা হয়। সাধারণত মাত্র ১-২% লোক এই রোগে আক্রান্ত হয় তবে মহিলাদের তুলনায় পুরুষেরা ৫ গুণ বেশি আক্রান্ত হয়। এটি পুরুষ ও বৃদ্ধা মহিলাদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে লক্ষণীয় প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিস। পুরুষরা সাধারণত ৩০ বছরের পর এবং মহিলারা ৪০ বছরের পরে বেশি আক্রান্ত হয়। বয়স বৃদ্ধি ও রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের ইউরিক এসিডের মাত্রা বেশি থাকে তবে বয়স ও ওজন বাড়লে রক্তে ইউরিক এসিডও বাড়বে। রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে তাকে হাইপারইউরিসেমিয়া বলে।

রক্তে ইউরিক এসিডের স্বাভাবিক মাত্রা হলো পুরুষের ক্ষেত্রে ২.০-৭.০ mg/dL ও মহিলাদের ক্ষেত্রে ২.০-৬.০ mg/dL।

যদিও হাইপারইউরিসেমিয়ার ফলে উচ্চরক্তচাপ, ভাস্কুলার রোগ, বৃক্কীয় রোগ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়লেও খুব অল্পসংখ্যক লোকের ক্ষেত্রে গাউট করে। সাম্প্রতিককালে মানুষের আয়ু বৃদ্ধি পাওয়া ও মেটাবলিক সিনড্রোমে আক্রান্ত হবার হার বেড়ে যাওয়ার সাথে সমান্তরালভাবে গাউটে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। ঐতিহাসিকভাবে এটাকে “রাজাদের রোগ” বা ধনীদের রোগ বলে।

রোগটি হওয়ার প্যাথলজি:

আমাদের শরীরের মূল্যবান একটি উপাদান পিউরিন। পিউরিন মেটাবলিজম থেকে এই রোগের উৎপত্তি হয়। পিউরিন যখন ভেঙে যায় এবং ভেঙে গিয়ে যখন সর্বশেষ অবস্থায় পরিণত হয় তখন আমরা এটাকে বলি ইউরিক এসিড। ইউরিক এসিড যখন শরীরে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং জমা হতে থাকে, বিভিন্ন অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ এবং জয়েন্টের মধ্যে তখন এই রোগের প্রাদুর্ভাব হয়।

গেঁটে বাত একপ্রকার সিনড্রোম, যা ইউরেট নামের একধরনের লবণদানা জমে জোড়া বা সঞ্চিত সৃষ্ট প্রদাহ, যা শরীরের রক্তের প্লাজমায় অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিডের উপস্থিতির ফলে ঘটে থাকে। গেঁটে বাত স্বল্পকালীন তীব্র প্রদাহ বা দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ—এই দুই প্রকারের হতে পারে। আবার যে কারণে রক্তের ইউরেট লবণ বেড়ে যায়, তা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন পারিপার্শ্বিক বা পরিবেশগত কারণ, ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাসের কারণে বা ব্যক্তির জন্মগত ত্রুটির কারণে, যাকে জেনেটিক কারণও বলা যায়।

অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড দেহে দুইভাবে জমতে পারে। যেমন অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদন ও ইউরিক অ্যাসিড দেহ থেকে নির্গত হতে বাধাপ্রাপ্ত হওয়া। ইউরিক অ্যাসিড দেহ থেকে সাধারণত কিডনির সাহায্যে বের হয়। কোনো কারণে, বিশেষ করে কিডনির রোগের কারণে কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাসে অসুবিধা হতে পারে।

কিভাবে রোগী বুঝবে?

এটি সাধারণত পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের জয়েন্টকে আক্রান্ত করে। গাউটের সঙ্গে যুক্ত কিছু সাধারণ লক্ষণ এবং উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • হাঁটু, পায়ের আঙ্গুল, কনুই এবং হাতের আঙ্গুল গুরুতর এবং আকস্মিক ব্যথা।
  • প্রভাবিত অংশের উপর গরম ত্বক ফোলা এবং লাল হওয়া।
  • জ্বর এবং কাঁপুনি।
  • এটি হঠাৎ করে বাহ্যিক কোন কারণ ছাড়ায় হতে পারে এবং সাধারণত রাতে বেশি হয়।
  • খুব দ্রুত ব্যথা শুরু হয়ে ২-৬ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র আকার ধারণ করে
  • প্রায়শই ভোরবেলা রোগীর ঘুম ভেঙ্গে যায়।
  • ব্যথা এতই তীব্র হয় যে রোগী পায়ে মোজা পরতেও পারেনা
  • আক্রান্ত জয়েন্ট বেশ ফুলে যায়
  • অবসাদগ্রস্ততা থাকতে পারে।
  • আক্রান্ত স্থান চুলকায় ও চামড়া উঠে যেতে পারে।
  • জয়েন্ট ও এর আশেপাশের টিস্যুতে ক্রিস্টাল জমা হয়ে নডিউল বা দলা তৈরি করতে পারে। টোফাসে ঘা হতে পারে
  • প্রদাহ হয়ে পুঁজ বের হতে পারে।
  • ক্ষতিগ্রস্ত গাঁট খুব কম নড়ানো যায়।

কারণগুলি কি কি:

  • আপনার রক্ত প্রবাহে ইউরিক অ্যাসিড জমে যাওয়া এবং জয়েন্টে ইউরেট স্ফটিকের গঠন হওয়া।
  • জিনগত এবং পরিবেশগত বিষয়গুলির সমন্বয়।
  • খাদ্যে নির্দিষ্ট পিউরিনের মাত্রা।
  • স্থূলতা।
  • অতিরিক্ত মদ খাওয়া।
  • সিউডোগাউট (বা একিউট ক্যালসিয়াম পাইরোফসফেট আর্থ্রাইটিস)।

শরীরের কোন কোন জোড়া বা স্থান আক্রান্ত হয়:

শতকরা ৫০ জনের দেখা যায়, বুড়ো আঙ্গুলের মাথা থেকে শুরু হয়। বাকি ৫০ শতাংশের বুড়ো আঙ্গুলের মাথা ছাড়াও হচ্ছে। অর্থাৎ পায়ের পাতার অন্যান্য যে অংশগুলো বা পাতার জয়েন্টগুলো থেকে এই ব্যথার উৎপত্তি হতে পারে।  আরো একটু উপরের দিকে, আমরা যেটাকে বলি গোড়ালির জয়েন্ট; সেটা থেকেও হতে পারে। তারপর আরো একটু উপরে হাঁটু পর্যন্ত হতে পারে। এখানে একটি বিষয় মজার, গাউট কিন্তু একটু দূরের জয়েন্টগুলোকে আক্রমণ করতে চায়। একজন যদি মেরুদণ্ড, কোমর বা ব্যাকপেইন নিয়ে আসে আমার প্রথমেই চিন্তুা হবে এটা গাউটের বাত নয়। গাউটের বাত হবে একটু পেরিফেরির দিকে। পায়ের দিকে, হাতেরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে, ছোট ছোট জয়েন্টগুলো আক্রমণ করতে পারে। তবে হাতে আক্রমণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম হয়।

কী খাওয়া যাবে না:

  • কোমল পানীয়।
  • প্রাণীর কলিজা।
  • মগজ।
  • গিলা।
  • গরু, খাসি, ভেড়ার মাংস (চার পা পশুর মাংস)।
  • সামুদ্রিক মাছ সতর্কতার সাথে খেতে হবে।
  • ডাল জাতীয় খাবার।
  • চিনি ও তৈরী মিষ্টান্ন।

গাউটের জটিলতা হল:

১. কিডনি স্টোন: 

গাউটে আক্রান্তদের মূত্রনালিতে ইউরেট ক্রিস্টাল তৈরি হয়, যা কিডনি স্টোনের কারণ। ওষুধের প্রয়োগে কিডনি স্টোনের ঝুঁকি কমানো যায়।

২. পরিণত বা অ্যাডভানস গাউট:

গাউটের চিকিৎসা না হলে, ত্বকের নীচে ইউরেট ক্রিস্টাল গুটি বা ক্ষুদ্র আবের আকারে তৈরি হয়ে ও জমা হয়, যাকে টোফি (টো-ফাই) বলে এবং এটা হাতে, আঙুলে, পায়ে, অ্যাকিলিস টেন্ডন বা কনুই এবং গোড়ালির পেছন দিকে হতে পারে। এই ক্ষুদ্র আব বা গুটি ব্যথার উদ্রেক না করলেও, গাউটের সময়ে নরম হয়ে ফুলে যায়।

৩. বার বার হওয়া বা রেকারেন্ট গাউট:

অনেকেই গাউটের লক্ষণ বুঝতে না পারলেও, অন্যরা কিন্তু প্রত্যেক বছর অনেক বার গাউটের লক্ষণ বুঝতে পারে। বার বার গাউট হলে, ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিরোধ সম্ভব। চিকিৎসা না হলে ক্ষয় হয় এবং শেষপর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত গাঁট ধ্বংস হয়ে যায়।

৪. অবসাদ ও হতাশা গ্রস্ততা:

অনেক সময় রোগীর অবসাদ ও হাতাশা গ্রস্ততা হতে পারে। কোনো ‍কিছুতে ভালো না লাগা। কোনো কাজ করতে না ইচ্ছা হওয়া। এছাড়াও শরীর সবসময়ই দূর্বল লাগতে পারে।

রোগ নির্ণয় 

  • রোগীর পূর্ব ইতিহাস থাকে জানা যায়।
  • মাঝরাতে তার তীব্র ব্যথা হচ্ছে কিনা।
  • চামড়াটা লাল হয়ে যাবে।
  • ফুলে যাবে।
  • রোগীর হাঁটতে কষ্ট হবে।
  • সিনোভিয়াল ফ্লুয়িড পরীক্ষা
  • ডুয়াল এনার্জি সিটি স্ক্যান
  • আলট্রাসাউন্ড
  • এক্স-রে 
  • অনেক সময় রোগীর জয়েন্ট থেকে ফ্লুইড নিয়ে মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করা।
  • এছাড়াও ক্লিনিক্যাল ফিচার দেখে বুঝা যায়।
  • রক্ত পরীক্ষা
  • স্পাইকের মতো রড আকৃতির ইউরিক এসিড ক্রিস্টাল যা অস্থিসন্ধি থেকে নেয়া তরল থেকে পাওয়া।
  • জয়েন্ট থেকে তরল বের করে পরীক্ষা করলে ইউরেট ক্রিস্টাল পাওয়া যাবে।
  • ব্লাড গ্লুকোজ।
  • লিপিড প্রোফাইল।
  • এক্সরে- ক্রনিক গাউটে অস্থিক্ষয়ের চিহ্ন পাওয়া যায়
  • এছাড়া অ্যাকিউট গাউটে ESR, CRP, নিউট্রোফিল ও ইউরিক এসিডের সংখ্যা বেড়ে যায়।

গিট বাত-গাউট-গাউটি আর্থ্রাইটিস ও জোড়া প্রদাহ এর চিকিৎসা ওষুধ:

চিকিৎসা:

গাউটের চিকিৎসা নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলির মাধ্যমে হয়:

  • খাদ্য এবং জীবনধারায় পরিবর্তন করে।
  • হাইপারইউরিসেমিয়ার সঙ্গে যুক্ত ওষুধগুলি পরিবর্তন করে অথবা বন্ধ করে (যেমন, ডিউরেটিক)।
  • ইউরিক অ্যাসিড কমানোর এজেন্টের ব্যবহার।
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্য খেয়ে।
  • পর্যাপ্ত মাত্রায় শারীরিক কার্যকলাপ করে।
  • আক্রান্ত জয়েন্টে বরফ লাগাতে হবে।
  • বিশ্রামে রাখতে হবে।
  • অ্যালোপিউরিনল।
  • ফেবুক্সস্ট্যাট।
  • বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
  • ওজন বেশি থাকলে কমাতে হবে।
  • মদ্যপানের অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে হবে।
  • প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন মাছ, মাংস (হাঁস, ভেড়া, কবুতর, খাসি ইত্যাদি), ডিম, শিমের বিচি, কলিজা ইত্যাদি খাওয়া যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে হবে।
  • যেসব রোগের কারণে গিঁটে ব্যথা হয়, সেসব রোগের যথাযথ চিকিৎসা করাতে হবে।
  • কিছু ওষুধ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • রিহ্যাবিলিটেশন ও ফিজিক্যাল থেরাপি।
  • ওজন কমাতে হবে।
  • কম চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া উপকারী।
  • বেশি পিউরিন আছে এমন খাবার কম খাওয়া ভালো যেমনঃ বিভিন্ন ধরনের ডাল বিশেষ করে মসুর ডাল ও মটর ডাল। শিম, শিমের বিচি, বরবটি, মটরশুঁটি, কড়াইশুঁটি, পুঁইশাক, পালং শাক, অ্যাসপ্যারাগাস, ফুলকপি, মাশরুম, কচু, ইস্ট, লাল মাংস যেমন গরু, খাসি, ভেড়া, হরিণ, সব ধরনের হাঁসের মাংস যেমন- রাজহাঁস, জংলি হাঁস ও পাতিহাঁস; শূকর ও খরগোসের মাংস, বড় পাখির বা তুর্কি মোরগের মাংস, কবুতর ও তিতির পাখির মাংস। মগজ, কলিজা, বৃক্ক, যকৃৎ, অগ্ন্যাশয়, জিহ্বা, বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ ও মাছের ডিম, সামুদ্রিক খাবার, কাঁকড়া, চিংড়ি, শামুক ইত্যাদি।
  • ফলমূল, অন্যান্য শাকসবজি প্রচুর খেতে হবে।
  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচা মরিচ, আমলকী, তাজা শাকসবজি ইত্যাদি প্রচুর খেতে হবে।
  • কম পিউরিন সমৃদ্ধ আরো খাবারের মধ্যে আছে দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য (দৈ, ঘি, মাখন), ডিম, চীনাবাদাম, লেটুস, পাস্তা, সাগু, ময়দা ইত্যাদি।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে যেন প্রতিদিন ২ লিটার বা তার বেশি প্রস্রাব হয় এতে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড শরীর থেকে বের হয়ে যেতে সাহায্য করবে এবং ইউরিনারি ট্রাক্টে ইউরেট জমা হয়ে পাথর হবার সম্ভাবনা কমে যাবে।
  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করতে হবে।
  • যে সকল ওষুধ ইউরিক এসিড লেভেল বাড়ায় যেমন থিয়াজাইড ডাইউরেটিকস্, অ্যাসপিরিন, নিয়াসিন ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।

ওষুধ

১. করটিকোস্টেরয়েড:

এই ওষুধগুলো ড্রাগ প্রেডনিসোনের মতন, যা গাউটের ব্যথা এবং জ্বালা-লাল হয়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এই ওষুধ পিল হিসেবে বা ইনজেকশনের মাধ্যমে গাঁটে দেওয়া যায়।

২. কলচিসাইন:

ডাক্তার কলচিসাইনের পরামর্শ দিতে পারেন, এই ব্যথা নিরাময় কারি ওষুধ কার্যকারীভাবে  গাউটের ব্যথার উপশম করে।

৩. অন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি ড্রাগ:

এনএসএআইডি-র মধ্যে দোকানে পাওয়া ওষুধের ভেতরে নাপ্রোক্সিন সোডিয়াম ও ইবুপ্রোফান অন্যতম। শক্তিশালী এনএসএআইডি-র মধ্যে সেলেকোক্সিব বা ইন্ডোমিথাসিন অন্যতম।

৪. ইউরিক অ্যাসিডের উন্নততর নিষ্কাশন করে যে ওষুধ:

প্রোবেনেসাইড কিডনির ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীর থেকে ইউরিক অ্যাসিডের নিষ্কাশন বাড়ায়। এভাবে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা এবং গাউট হবার ঝুঁকি কমলেও, মূত্রে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কিন্তু বেড়ে যায়।

৫. ইউরিক অ্যাসিডের উৎপাদন বন্ধ করে যে ওষুধ:

এক্সানথাইন অক্সিডেজ ইনহিবিটারের মতন ওষুধের মধ্যে ফেবুক্সোস্টাট এবং অ্যালোপুরিনল অন্যতম, যা শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং যার জন্য রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা এবং গাউট হবার ঝুঁকি কমে যায়।

চিকিৎসার প্রথম ধাপ হলো ব্যথা কমানো। এক্ষেত্রে NSAID যেমন ন্যাপ্রক্সেন, আইবুপ্রফেন, ইনডোমেথাসিন খুবই কার্যকর। আক্রান্ত জয়েন্টে বরফ লাগালে কিছুটা উপশম পাওয়া যায়। কোলচিসিন একটি কার্যকরী ঔষধ তবে এটি বমি ও ডায়রিয়া করতে পারে। কর্টিকোস্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ রোগের তীব্রতা কমাতে খুব ফলপ্রসূ। এক্ষেত্রে আক্রান্ত জয়েন্টে কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন দিলে খুব উপকার পাওয়া যায়।

চিকিৎসার দ্বিতীয় ধাপ হলো ইউরেট এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে আনা; এক্ষত্রে জ্যানথিন অক্সিডেজ ইনহিবিটর যেমন অ্যালোপিউরিনল, ফেবুক্সোস্ট্যাট ইউরিক এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখতে ব্যবহার করা হয়। এসব ওষুধ শুরু করার পরপর গাউটের ব্যথা বাড়তে পারে। রোগীকে পূর্বেই এ ব্যাপারে সতর্ক ও আশ্বস্ত করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ওষুধ বন্ধ না রেখে খাওয়া চালিয়ে যাবার কথা বলা হয়। প্রতি ৬ মাস পর ইউরিক এসিড লেভেল মনিটর করার সুপারিশ করা হয়। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউরেট কমানোর ঔষধ চালিয়ে যেতে হয়।

আরেকরকম ঔষধ হলো ইউরিকোসুরিক ড্রাগস যেমন প্রবেনিসিড অথবা সালফিপাইরাজোন, এগুলোও বেশ কার্যকর। কিডনি খারাপ থাকলে বা যাদের শরীরে ইউরিক এসিড বেশি তৈরি হয় তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ নিষিদ্ধ কারণ এটি কিডনিতে পাথর করতে পারে।

পিগ্লোটিকেজ (একটি রিকম্বিনান্ট ইউরিকেজ) নামে আরেকটি ঔষধ আছে যেটি টোফাসযুক্ত গাউট সাধারণ চিকিৎসায় ভালো না হলে ব্যবহার করা হয় তবে এর একটি অসুবিধা হলো এটাতে অ্যানাফাইল্যাক্টিক রিয়াকশন হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

বাত ব্যথা প্যারালাইসিস ডিসএবিলিটি ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ

যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব লি:

(১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)

শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে

সিরিয়ালের জন্য ফোন: 01997702002 অথবা 09666774411

মেডিকেলবিডি/আরএম/ ৭ জুন, ২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × three =

12/1 Ring Road, Shyamoli, Dhaka

09666 77 44 11

dprchospital@dprcbd.com