কাঁঠালের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

কাঁঠালের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ

কাঁঠাল পুষ্টিগুণে ভরপুর। কাঁঠালে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, বি-১, বি-২, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ নানা রকমের পুষ্টি ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। এই সকল উপাদান আমাদের শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখতে সাহায্য করে। মানুষের দেহে যেসব পুষ্টির প্রয়োজন প্রায় সবই আছে কাঁঠালের মধ্যে। এক সময় বাঙালির পুষ্টির অভাব পূরণ করতো এই কাঁঠাল। এখনও বেশির ভাগ মানুষ পুষ্টির জন্য কাঁঠাল খেয়ে থাকেন। কাঁঠাল কিন্তু পুষ্টির রাজা। এর বিচিরও রয়েছে নানা গুণ যা মানব দেহের জন্য উপকারী।

কাঁঠাল কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়। পাকা ফল বেশ পুষ্টিকর। কাঁঠালের আঁটি তরকারির সাথে রান্না করে খাওয়া হয় অথবা পুড়িয়ে বাদামের মত খাওয়া যায়। এর একটি সুবিধে হল, আঁটি অনেকদিন ঘরে রেখে দেয়া যায়। পাকা ফলের কোষ সাধারণত খাওয়া হয়, এই কোষ নিঙড়ে রস বের করে তা শুকিয়ে আমসত্বের মত ‘কাঁঠালসত্ব’ও তৈরি করা যায়। তাই এক কথায়  বলা যায় কাঁঠালের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ অনেক।

কাঁঠালের পুষ্টি ও ঔষধি গুণ:

  • হাড় মজবুত ও শক্ত করে।
  • রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • চোখ ভালো রাখে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
  • দেহের রক্তাল্পতা দূর করে।
  • কাঁঠাল হজম শক্তি বাড়ায়।
  • কাঁঠাল ত্বকের জন্য ভালো।
  • কাঁঠাল ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
  • কাঁঠালে চর্বির পরিমাণ নিতান্ত কম। এই ফল খাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা কম।
  • উচ্চ রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
  • কাঁঠাল হাঁপানি প্রতিরোধ করে।
  • কাঁঠাল থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
  • পাইলসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
  • রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।
  • সর্দি-কাশি রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
  • টেনশন এবং নার্ভাসনেস কমাতে কাঁঠাল বেশ কার্যকরী।
  • দুগ্ধদানকারী মা তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
  • প্রতিদিন ২০০ গ্রাম তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে গর্ভবতী মহিলা ও তার গর্ভধারণকৃত শিশুর সব ধরনের পুষ্টির অভাব দূর হয়।

  • গর্ভবতী মহিলারা কাঁঠাল খেলে তার স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে এবং গর্ভস্থসন্তানের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়।
  • দাঁতের মাড়িকে শক্তিশালী করে।
  • আলসার এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সক্ষম।
  • বদহজম রোধ করে কাঁঠাল।
  • কাঁঠাল রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • রক্ত সংকোচন প্রক্রিয়া সমাধানেও ভূমিকা রাখে।

কখন খাবেন:

  • কাঁঠালের বিচি ভর্তা ও তরকারিতে মিক্স করে খেতে পারেন
  • কাঁঠালের বিচি ভাজা মচমচা করেও খেতে পারেন
  • কাঁচা কাঁঠাল তরকারি (নিরামিষ) করে খেতে পারেন
  • কাঁঠাল, মুড়ি ও নারকেল মিক্স করে খেতে পারেন
  • সকালে নাস্তার সাথে কাঁঠাল রাখতে পারেন
  • রাতে খাবারের পর কাঁঠাল রাখতে পারেন
  • রুটির সাথে কাঁঠাল খেতে পারেন
  • দুধ, ভাত ও কাঁঠাল মিক্স করে খেতে পারেন
  • কাঁঠালের বিচি খেতে পারবেন হালকা নাশতায়, সালাদ, তরকারি, হালুয়া হিসেবে
  • কাঁঠালের বিচি গুঁড়ো করে সকালের জুসেও খেতে পারেন

কাঁঠালের পুষ্টিমান:

কাঁঠালে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, বি-১,  বি-২, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামসহ নানা রকমের পুষ্টি ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠালে ১.৮ গ্রাম, কাঁচা কাঁঠালে ২০৬ গ্রাম ও কাঁঠালের বীজে ৬.৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। পাকা কাঁঠালে ০.১ গ্রাম, কাঁচা কাঁঠালে ০.৩ ও কাঁঠালের  বীজে ০.৪ গ্রাম শ্বেতসার পাওয়া যায়। কাঁঠালে ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায়। যায়। পাকা কাঁঠালে ০.১১ মি.গ্রা, কাঁচা কাঁঠালে ০.৩ মি.গ্রা ও কাঁঠালের বীচিতে ১.২ মি.গ্রা বি-১ পাওয়া যায়।পাকা কাঁঠালে ০.১৫ মি.গ্রা, কাঁচা কাঁঠালে ০.৯ মি.গ্রা এবং কাঁঠালের বীচিতে ০.১১ মি.গ্রা বি-২ পাওয়া যায়। পাকা কাঁঠালে ২১ মি.গ্রা, কাঁচা কাঁঠালে ১৪ মি.গ্রা এবং কাঁঠালের বীজে ১১ মি.গ্রা ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। পাকা কাঁঠালে আয়রনের পরিমাণ ০.৫ মি.গ্রা, কাঁচা কাঁঠালে ১.৭ মি.গ্রা এবং বীজে ১.৫ মি.গ্রা। কাঁঠালে রয়েছে পটাশিয়াম যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কাঁঠাল থেকে ৪৮ কিলোক্যালরি, কাঁচা কাঁঠাল থেকে ৫৩ কিলোক্যালরি এবং কাঁঠালের বীজ থেকে ১৩০ কিলোক্যালরি পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে ৪৫০ মাইক্রোগ্রাম এবং বীজে ১০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন পাওয়া যায়। এছাড়াও প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালে রয়েছে ০.৩ মি.গ্রা থায়ামিন, ০.১৩ মি.গ্রা রিবোফ্লাভিন।

আরএম/ ২ জুন, ২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve − 4 =

12/1 Ring Road, Shyamoli, Dhaka

09666 77 44 11

dprchospital@dprcbd.com