All Posts in Category: স্বাস্থ টিপস

পায়ের গোড়ালীর ব্যথা চিকিৎসা ও পূর্ণবাসন

পা মানব শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন অংঙ্গ। যার পা নেই সেই বুঝে পায়ের মর্মকথা।আর যাদের পা থেকেও সঠিকভাবে হাটা-চলাফেরা করতে পারছেন না বা ভূগছেন পায়ের গোড়ালীর ব্যথায় তাদের পায়ের গোড়ালীর নানাবিধ সমস্যা চিকিৎসা ও পূর্ণবাসন নিয়ে আলোকপাত করা হল ঃপা মানব শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন অংঙ্গ। যার পা নেই সেই বুঝে পায়ের মর্মকথা।আর যাদের পা থেকেও সঠিকভাবে হাটা-চলাফেরা করতে পারছেন না বা ভূগছেন পায়ের গোড়ালীর ব্যথায় তাদের পায়ের গোড়ালীর নানাবিধ সমস্যা চিকিৎসা ও পূর্ণবাসন নিয়ে আলোকপাত করা হল ঃ

সোহেলী রহমান একটি বেসরকারী ব্যাংকের কর্মকর্তা। দীর্ঘ দিন কোমর ব্যথায় ভুগেছিলেন নিয়মিত ফিজিও নিয়ে এবং চিকিৎসকের নিদের্শমত ব্যায়াম করে ভালই ছিলেন । কিন্তু ইদানিং ঘুম থেকে উঠে ফ্লোরে পা রাখতেই পায়ের তলায় র্তীব ব্যথা হয়।আবার অনেকক্ষন চেয়ারে বসে থাকার পর উঠে দাড়াতেই পায়ের তলায় তীব্র ব্যথা হয়। একটু হাটা হাটি করলে ব্যথা কিছুটা কমে আসে।

সোহেলী রহমান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরনাপন্ন হয়ে জানতে পারলেন উনার প্লান্টার ফ্যাসাইটিস হয়েছে।
মানব দেহে পায়ের গোড়ালীতে যেসব কারনে ব্যথা হয় তার মধ্যে প্লান্টার ফ্যাসাইটিসই বেশী দায়ী। দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে পায়ের তলায় স্পার বা কাটার মত হাড় বৃদ্ধি হয় তাকে ডাক্তারী ভাষায় ক্যালকেনিয়াল স্পার বলা হয়।তাছাড়া পায়ে হাড় ভেঙ্গে গেলে ব্যথা হয়, গেটেবাত, ওস্টিওমাইলাইটিস, স্পন্ডাইলো অর্থোপ্যাথি, বার্সাটিস, টেনডিনাইটিস, পায়ের গঠনগত ভূল ইত্যাদি রোগে পায়ের গোড়ালীতে ব্যথা হতে পারে।

 

লক্ষণ ঃ১. পায়ের গোড়ালীতে ব্যথা হবে। সাধারনত হাটলে সেটা আরও বেড়ে যায়।২. গোড়ালী কখনো কখনো ফুলে যেতে পারে।৩. খালি পায়ে শক্ত জায়গায় হাটলে সাধারনত ব্যথা বেশি বাড়ে।৪. পায়ের গোড়ালীতে ব্যথা সকালে বেশি থাকে এবং তা বেলা বাড়ার সাথে সাথে একটু কমে আসে।৫. অনেক্ষণ এক জায়গায় বসার পর পা ফেলতে কষ্ট হয়।৬. কখনো কখনো গোড়ালী শক্ত মনে হয়।৭. আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে ফুলে যেতে পারে ও গরম অনুভব হয়।৮. পায়ের পাতা একটু অবশ বা প্যারালাইসিস ভাব হয়।
চিকিৎসা ঃরোগ নির্ণয় জরুরী, সর্ঠিক চিকিৎসার প্রথম শর্ত সর্ঠিক রোগ নির্ণয়।ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত কার্যকরী নিরাপদ চিকিৎসা , তা হতে হবে সঠিক ও বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের তত্তাবধানে।
জুতার পরির্বতন যেমন- নরম সোল ব্যবহার করা, হিল কূসন ব্যবহার, আর্চ সার্পোট দেয়া, গোড়ালির কাছে ছিদ্র করে নেয়া ইত্যাদি।শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলতে হবে। ক্যালকেনিয়ান স্পার হলে কখনই অপারেশন করানো উচিত হবে না। নরম সোল এর জুতা ব্যবহার করবেন। চিকিৎসকের নির্দেশমত পায়ের ব্যায়াম নিয়মিত করবেন। প্রত্যহ ১০ মিনিট কুসুম গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন।

Read More

অস্টিওআর্থ্রাইটিস

বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিসের মধ্যে সবচেয়ে কমন হচ্ছে- অস্টিওআর্থ্রাইটিস। অন্যনাম ডিজেনারেটিভ আর্থ্রাইটিস। শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে হাড়ের শেষ প্রান্তে যে কার্টিলেজ থাকে তা একটা কুশনের মতো কাজ করে। ক্রমাগত মুভমেন্টের ফলে জয়েন্টর হাড়ের মধ্যে ঘর্ষণ হয়। এই ঘর্ষণের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে কার্টিলেজ। নানা কারণে এই ক্ষয় হতে হতে এই কার্টিলেজের টোটাল ক্ষতি হয়। এর ফলে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হয়, জয়েন্টে ব্যথা হয় ও মাবিলিটি কমতে থাকে। জয়েন্ট মার্জিনে নতুন হাড় তৈরী হয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস স্পাইনে হলে বলা হয় স্পন্ডাইলোসিস। যেমন: গাঢ়ে হলে সারভাইকেল স্পন্ডাইলোসিস বা কোমরে হলে লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস।

শরীরের কোথায় অস্টিওআর্থ্রাইটিস হয়: হাঁটু, কোমর, হাত ও পায়ের আঙ্গুল, স্পাইন, কনুই, রিস্ট, এংকেল প্রভৃতি স্থানে সচরাচর অস্টিও আর্থ্রাটিস হয়।

কাদের এবং কোন বয়সে বেশি হয়:

* যাদের শরীর মোটা এবং ভারি।
* ৪০ বছর বয়সের পর।
* বংশগতভাবে অর্থাৎ কারও পরিবারে এই রোগ থাকলে তাদের হবার সম্ভাবনা বেশি।
* পুরুষের তুলনায় মহিলাদের বেশী হয়।
* যাদের পেশা জীবনে কঠোর পরিশ্রম করতে হয় তাদের বেশী হয়।
* কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণে হয়ে থাকে।

 

অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়ার কারণ:

ক) বয়সের কারণে
বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্রমাগত ব্যবহারে কার্টিলেজের ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে এবং এই প্রটেক্টিভ কভার হারিয়ে যাবার কারণে জয়েন্টের দু’দিকে হাড়ের ঘর্ষণে ব্যথা হয়।

খ) স্থুলতার কারণে
স্থুলতার ফলে শরীরের ওয়েট বিয়ারিং জয়েন্ট অর্থাৎ যে জয়েন্টে শরীরের ভার বহন করে- সেগুলোর উপর চাপ বাড়তে থাকে। বেশি শরীরিক ওজনের কারণে হাঁটুতে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

গ) অন্যান্য কারণ
উল্লেখিত দু’টি কারণের পাশাপাশি আরো কিছু কারণে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হতে পারে। যেমন:
বারবার জয়েন্টে আঘাত লাগা বা অপারেশন করা।
জয়েন্টে বিভিন্ন ধরনের জন্মগত ত্র“টি।
জয়েন্টে ইনফেকশন হওয়া।
ডায়াবেটিস থাকা।
অতিরিক্ত ইউরিক এসিড ও বাত থাকা।

রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ:
১. বিশ্রামের সময় অথবা হাঁটাচলা বা কাজ কর্ম করার সময় ব্যথা।
২. হাঁটু, হাত ও পায়ের আঙ্গলের জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, কোমর ব্যথা, গাঢ় ব্যথা বা শিরদ্বারা ব্যথা।
৩. ডিফরমিটি বা বিকৃতি (যেমন: হাঁটু বাইরের দিকে বেঁকে যাওয়া)।
৪. খুড়িয়ে চলা।
৫. মুভমেন্টের সময় শব্দ হওয়া।
৬. মুভমেন্ট কমে যাওয়া।
৭. ব্যথা নির্দিষ্ট জোড়ার হতে পারে,অনেক সময় শিন শিন জাতীয় ব্যথা হাতে বা পায়ে উঠানা নামে করতে পারে, এটা মেরুদন্ডে হয়ে থাকে।

 

রোগ নির্ণয়:
জয়েন্টের এক্স-রে- জয়েন্টের মাঝের স্পেস কমে যায়, জয়েন্টের মার্জিনে নতুন হাঁড় পাওয়া যায়। অনেক সময় জয়েন্ট থেকে স্পাইনাল নিডলের সাহায্যে ফ্লুয়িড বের করে এনালাইসিস করা হয়, এতে বাত বা ইনফেকশনের কারণে ব্যথা হচ্ছে কি না- তা বুঝা যায়।

অন্যান্য রক্তের পরীক্ষা।
এম আর আই বা সিটি স্কেন।
তাছাড়া চিকিৎসক নির্দিষ্ট কিছু ফিজিকেল পরীক্ষা করে থাকেন।

 

চিকিৎসা:
ফার্মাকোথেরাপি- এনএসএআইডিএস, কর্টিলেজ প্রটেকটিংড্রাগ ইত্যাদি।
ফিজিওথেরাপি- ব্যায়াম, আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি, হাইড্রোথেরাপি ইত্যাদি।

 

উপদেশ:
* খুব বেশি ব্যথা হলে পরিপূর্ণ বিশ্রাম।
* শারীরিকভাবে স্থুল রোগীর ক্ষেত্রে ওজন কমানো।
* বিপরীত হাতে লাঠিতে ভর করে হাঁটা ।
* হাঁটু মুড়ে উবু হয়ে বসা যাবেনা, উঁচু স্থানে বসতে হবে।
* হাই কমোড ব্যবহার করতে হবে।
* ডাক্তারের পরামর্শে সঠিক নিয়মে ব্যথার ওষুধ খেতে হবে।

 

সার্জারি:
আর্থেস্কোপি করে জয়েন্ট স্মুথ করা হয়।
এছাড়াও গুরুতর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের জন্য টোটাল হিপ বা টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট করা যায়,
তবে সার্জারির আগে ও পরে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।

Read More

হাটু ব্যাথার আধুনিক চিকিৎসা

মাহাম্মদ আলী সাহেব এখন দাদা। নাতী নাতনি নিয়ে তিনি ভালই কাটাচ্ছেন, কিন্তু কিছু দিন যাবৎ তিনি নামাজ পরতে ও টয়লেট ব্যবহার করতে অসুবিধা বোধ করছেন কারণ উঠতে বসতে মোহাম্মদ আলী সাহেবের হাটুতে ব্যথা হয় এবং মাঝে মাঝে ফুলে উঠে।মোহাম্মদ আলী সাহেব এমন একটি হাড়ক্ষয় জনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন যাকে সাধারণ মানুষ হাটু ব্যথা বলে থাকে। আর চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে “অষ্টিওআথ্রাইটিস আব নি” বলা হয়। হাটু ব্যথা শুধু ক্ষয় জনিত রোগেই নয়, বিভিন্ন কারণে হাটু ব্যাথা হতে পারে।

যেমন- রিউমাটয়েড আথ্রাইটিস, সেপটিক আথ্রাইটিস, গাউট, সোরিয়েটিক আথ্রাইটিস, এনকাইলজিং স্পন্ডাইলাইটিস, এসএলই ইত্যাদি। তবে সবচেয়ে বেশি হাটু ব্যথা সাধারণত অস্থিক্ষয়ের জন্যই হয়ে থাকে। জোড়ার ভিতর আঠালো এক প্রকার পদার্থ থাকে যাহা জোড়াকে নড়াচড়া করেত সহজ করে দেয়।

অনেক ক্ষেত্রে এই তরল পদার্থ শুকিয়ে গেলেও এই রোগ দেখা দেয। এ সমস্যা একদিনে তৈরী হয় না। অস্বাভাবিক ক্রিয়া বিক্রিয়ার ফলে আস্তে আস্তে রোগের প্রতিক্রিয়া লক্ষণ পায়। প্রাথমিক পর্যায়ে হালকা গরম হওয়া, ফুলে যাওয়া, ব্যথা হওয়া শুরু হয় এবং পরবর্তীতে হাটু নড়াচড়া করলে প্রচুর ব্যথা হয় রোগী নামাজ পড়তে, টয়লেট ব্যবহার করতে এবং দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হয়। এভাবে চলতে থাকলে রোগী হাটুর কর্মক্ষমতা হাড়িয়ে হাটা চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়া হাড় ও জোড়ার অন্যান্য রোগে, আঘাত পেলে, খেলোয়ারদের খেলাধুলার সময় ভূল অবস্থানের জন্য হাটুতে আঘাত পেলে বা মচকালে অনেক সময় কোমরের অসুবিধার জন্য হাটুতে ব্যথা হতে পারে। তরুনদের তুলনায় বয়স্কদের হাটু ব্যথা বেশী হয় এবং মহিলাদের সাধারনত ৪০ বৎসরের পর ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে গেল হরমোনের তারতম্যের জন অস্থির কণিকা ক্ষয় প্রাপ্ত হয়ে এব রোগ দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসাঃ যেহেতু এ রোগের প্রধান কারণ ক্ষয়জনিত সমস্যা তাই এর প্রধান চিকিৎসা ফিজিওথেরাপি। অনেক ক্ষেত্রে ঔষধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা অনেক ফলদায়ক। বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকগণ রোগ নির্ণয়ের পাশাপিশি বিভিন্ন প্রকার চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তার মধ্যে শর্টওয়েভ ডায়াথার্মি, আল্ট্রোসাউন্ড, অতিলোহিত রশ্মি, ও বিভিন্ন প্রকার ব্যায়ামের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

এ সময় এমন কি সারা জীবন রোগিকে কিছু উপদেশ মানতে হয়। যেমন ডায়াবেটিস থাকলে নিয়ন্ত্রনে রাখা, শরীরের ওজন কমানো, উচু কমোড় বা পায়খানা ব্যবহার করা, হাটু গেড়ে না বসা, নিয়মিত চিকিৎসকের নির্দেশিত ব্যায়াম করা।অনেক ক্ষেত্রে শল্য চিকিৎসার প্রয়োজন হলে, শল্য চিকিৎসার আগেও পরে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়।

 

Read More

উঠতি বয়সী বাচ্চাদের গ্রোথ পেইন

কেস স্ট্যাডি ঃবয়স ৬ বৎসর ঢাকার একটি নামকরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে নার্সারীতে পড়ে। প্লে গ্রুপে থাকা অবস্থায় ভালই ছিল। কিন্তু ইদানিং সে স্কুল থেকে আসার পর মার কাছে পা ব্যথার কথা বলে। মাঝে মাঝে ব্যথা বেড়ে গেলে কান্নাকাটিও করে। কিছু দিন কম থাকে আবার বেড়ে যায়। ¯েœহার বাবা-মা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে জানতে পারেন গ্রোথ পেইন জনিত সমস্যায় ভূগছে।

গ্রোথ পেইন হলো স্কুলে যাবে বা যেতে শুরু করেছে এমন শিশুদের দুই পায়ের মাংসপেশিতে এক ধরনের অস্বস্থিকর চাবানো প্রচন্ড থেকে মাঝারি মানের ব্যথা যা শেষ বিকেলে বা সন্ধ্যার পরে হতে পারে। এ ধরনের ব্যাথায় শিশুর মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে।গ্রোথ পেইন সাধারনত তিন-চার বছর বয়সে বেশি হয়ে থাকে। তারপর সে কিছুদিন ভালো থাকে। আবার তার ৮-১২ বছর বয়সে এ ব্যথা দেখা দিতে পারে। ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যাথায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা একটু বেশি।

কারন ঃযদিও এর নাম গ্রোথ পেইন, কিন্তু এটা শিশুদের বাড়ন্ত হাড়ের কোনো গাঠনিক পরিবর্তন-জনিত রোগ নয়।এটি শুধু শিশুদের প্রাত্যহিক জীবনে অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট একটি লক্ষন। অতিরিক্ত দৌড়ঝাপ, লাফালাফি, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রোথ পেইন হতে পারে। সাধারনত কোনো শিশু যদি সারা দিন খেলাধুলায় মত্ত থাকে তাহলে তার বেলায় এ ধরনের ব্যথা হওয়ার ঝুকি বেড়ে যায়।

লক্ষন ঃগ্রোথ পেইন -এর লক্ষনগুলো শিশুভেদে বিভিন্ন রকম হতে পারে। কারো ক্ষেত্রে অনেক ব্যথা থাকে আবার কারো থাকে না। বেশির ভাগ শিশুর বেলায় প্রতিদিন ব্যথা হয় না। এ ব্যথা আসে আর যায়। কখনো কারো ক্ষেত্রে কয়েক মাস এমনকি বছর পর্যন্ত ব্যথা থাকতে পারে। সাধারনত বিকেল বা সন্ধ্যার সময় অথবা কারো ক্ষেত্রে রাতের আহারের আগমুহূর্তে বা বিছানায় শুতে যাওয়ার আগমুহূর্তে ব্যথা হয়ে থাকে।

মাঝে মাঝে ব্যথা এত তীব্র হতে পারে, যা শিশুটিকে রাতে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে। ব্যথাটি সকালে সম্পূর্ণরূপে চলে যায়। এ ব্যথা শিশুর কর্মক্ষমতা এবং স্পৃহাকে কখনোই প্রভাবিত করে না।ব্যথা শিশুটির দুইপায়ে অনুভুত হতে পারে, যা সাধারনত হাঁটুর ওপরের এবং পেছনের মাংশপেশিতে পরিলক্ষিত হয়।গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুর গ্রোথ পেইন থাকে, তারা সাধারনত ব্যথার প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয় এবং তাদের এর সাথে মাথা ও পেটে ব্যথা থাকে।

রোগটি নির্ণয় ঃএকজন চিকিৎসক উপরিউক্ত লক্ষন গুলো নিয়ে যদি কোনো শিশু তার কাছে আসে তাহলে শিশুটিকে যথাযথ পরীক্ষা করে এবং তার সাথে কথা বলে রোগটি নির্ণয় করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাকে মাংসপেশির ব্যথার অন্য কারন গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নিয়ে সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে উপনিত হতে হবে। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা যেমন ঃ সিবিসি, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, বি১২ ইত্যাদি রক্ত পরীক্ষা করা যেতে পারে।

চিকিৎসা ঃগ্রোথ পেইন এর সুনির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। স্বস্তির সংবাদ হল এ রোগ কোন প্রকার জটিলতা সৃষ্টি করেনা এবং শিশুর দৈহিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোন প্রভাব ফেলে না। এটা সাধারনত নিজে নিজে এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সেরে যায়। শিশুকে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহ দিলে অনেক ক্ষেত্রেই তা বছরখানেকের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। গ্রোথ পেইন এর চিকিৎসা নির্ভর করে শিশুটির ব্যথার তিব্রতার ওপর। এ ক্ষেত্রে নিচের পদ্ধতিগুলো গ্রহন করলে শিশুটিকে স্বস্তি এবং ব্যথামুক্ত করা যায়:
Stretching Exercise(চিকিৎসকের দেখানো মতে, দুই পায়ের মাংসপেশিগুলোকে Stretching করা যায়) পায়ের মাংসপেশিতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে Massage করা যায়।পায়ের মাংসপেশিগুলোতে গরম পানির সেঁক দেয়া যায়, যা খুবই কার্যকর। তবে তা খুবই সতর্কতার সাথে দিতে হবে, যাতে পা পুড়ে না যায় এবং তা কখনওই ঘুমন্ত অবস্থায় দেওয়া যাবে না।অনেক ক্ষেত্রে শিশুকে ঘুমানোর আগে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করানো যেতে পারে(ডধৎস ইধঃয)।

তবে মাথায় অবশ্যই নরমাল পানি দিতে হবে।শিশুকে নিয়মিত সুষম খাবার দিতে হবে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ফলমুল, শাকসবজি পরিমিত খাওয়াতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে শিশুটি যেন বাহিরের খাবার না খায়। পাশাপাশি পরিমিত ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

 

 

Read More

কোমর ব্যাথা ও ব্যাক পেইন

কোমর ব্যথা বা ব্যাকপেইনঃ বেশীরভাগ মানুষই জীবনের কোন না-কোন সময় কোমর ব্যথাজনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন। আমাদের দেশে প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে চার জন জীবনের কোননা-কোন সময়েএই সমস্যায় ভুগেন।কোমর ব্যথার কারনঃ            কোমর ব্যথার অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ৯০ ভাগ হচ্ছে ও মেকানিক্যাল সমস্যা। বলতে মেরুদন্ডের মাংসপেশি, লিগামেন্ট মচকানো, আংশিক ছিড়ে যাওয়া, দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক সমস্যা, কশেরুকার অবস্থানের পরিবর্তন ও মেরুদেিন্ডর নির্দিষ্ট বক্রতার পরিবর্তনকে বোঝায়।

চলাফেরা, জীবিকার ধরন, খুব বেশী ভার বা ওজন বহস, মেরুদন্ডের অতিরিক্ত নড়াচড়া, একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কোন কাজ করা, মেরুদন্ডে আঘাত পাওয়া সর্বোপরি কোমরের অবস্থানগত ভুলের জন্য হয়ে থাকে। অন্যান্য কারণের মধ্যে বয়সজনিত মেরুদন্ডে ক্ষয় বা বৃদ্ধি, অস্টিওআথ্রাইটিস বা গেঁটে বাত, অসিট ও পোরেপাসিস, এনকাইলজিং সপ্নডাইলোসিস, মেরুদন্ডের স্নায়বিক সমস্যা, টিউমার ক্যানসার, বোন টিবি, কোমরের মাংসপেশির সমস্যা, পেটের বিভিন্ন ভিসেরার রোগ বা ইনফেকশন, বিভিন্ন স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা, মেরুদন্ডের রক্তবাহী নালির সমস্যা, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, মেদ বা ভুঁড়ি অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি।

উপসর্গঃকোমরের ব্যাথা আস্তে আস্তে বাড়তে পারে বা হঠাৎ প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে। নাড়াচড়া কা কাজকর্মে ব্যাথা তীর থেকে তীব্রতর হতে পারে। ব্যাথা কোমরে থাকতে পারে বা কোমর থেকে পায়ের দিকে নামতে পারে অথবা পা থেকে কোমর পর্যন্ত উছতে পারে। অনেক সময় কোমর থেকে ব্যাথা মেরুদন্ডের পেছন দিক দিয়ে মাথা পর্যন্ত উছতে পারে। রোগী অনেকক্ষণ বসতে বা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।

ব্যাথার সঙ্গে পায়ে শিন-শিন বা ঝিন-ঝিনজাতীয় ব্যথা নামতে বা উছতে পারে, হাঁটতে গেলে পা ভিচে আসে বা আটকে যেতে পারে, ব্যথা দুই পায়ে বা যেকোনো এক পায়ে নামতে পারে। অনেক সময় বিছানায় শুয়ে থাকলে ব্যাথা বিছুটা কমে আসে। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে রোগীর কোমর ও পায়ের মাংসপেশির ক্ষমতা কমে আসে এবং শুকিয়ে  যেতে পারে, সর্বোপরি রোগী চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।যেহেুত আধুনিক এই যুগেও কোমর ব্যথা একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাস্থ্য সমস্যা; তাই এ সমস্যার সমাধনে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

প্রতিকারঃফার্মাকোথেরাপি: চিকিৎসকরা রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষ নিরীক্ষার পর সাধারণত ব্যথানাশক এনএসএআইডিএস গ্রুপের ওষুধ, মাসল রিলাক্রজেন ও সেযেটিভজ- জাতীয় ওয়ুধ প্রয়োগ করে থাকেন। যেহেতু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা নির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে সেজন্য অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন করা আবশ্যক।ফিজিওথেরাপিঃকোমর ব্যথাজনিত সমস্যার অত্যাধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে ফিজিওথেরাপি।

এই চিকিৎসাব্যবস্থায় চিকিৎসক রোগীকে ইলেকট্রোম্যগনেটিক রেডিয়েশন, আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি, লাম্বার ট্রাকশন শর্টওয়েভ ডায়াথার্মি, অতিলোহিত রশ্মি, ইন্টারফেরেনশিয়াল থেরাপি, ইনফারেড রেডিয়েষন, ট্রান্স কিউটেনিয়াস ইলেকট্রিক নার্ভ ইস্টিমুলেটর, ইলেকট্রিক নার্ভ ও মাসেল ইষ্ট্রিমুলেটর,  অটো ও মেনুয়াল ট্রাকশন, হাইড্রোথেরাপি, লেজার থেরাপি ও বিভিন্ন প্রকার ব্যায়ামের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন ।

তাছাড়া চিকিৎসা চলা অবস্থায় কোমরে নির্দিষ্ট অর্থোসিস বা ব্রেস প্রয়োগ করে থাকেন। সার্জারিঃযদি দীর্ঘদিন ফার্মাকোথেরাপি ও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা চালানোর পরও রোগীর অবস্থার পরিবর্তন না হয় রোগীকে অবস্থা অনুযায়ী কোমর-মেরুদন্ডের অপারেশন বা সার্জারীর প্রয়োজন হয়। সার্জারীর পরবর্তীতে রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নির্দেশমত নির্দিষ্ট ব্যায়াম দীর্ঘ দিন চালিয়ে যেতে হয়।প্রতিরোধঃকোমর ব্যথা উপরে উল্লিখিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে ভালো হওয়ার পরও  আবার দেখা দিতে পারি।

যেহেতু কোমর ব্যাথা বারবার দেখ দিতে পারে বা যারা এখনো ও জাতীয় সমস্যয় ভোগেননি, তারা নিচের পামর্শ মেনে চলতে পারেন। তবে ব্যায়াম করার আগে আপনা জন্য কী ব্যায়াম, তার জন্য অবর্শই চি কিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ ভুল ব্যায়ামের কারণে সমস্যাআরও বেড়ে যেতে পারে। সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম শুরুর আগে কিছু স্টেুচিং ব্যায়াম করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।পায়ের কাফ মাসল বা মাংসপেশির স্ট্রেচিংঃ দেয়ালের কোণে গিয়ে এক পা সামনে এক পা পেছন দিয়ে দাঁড়ান। পেছনের হাটু সোজা রেখে সামনে ঝুঁকে  দিয়ে সামনের দুইপাশের দেয়ালের ধাক্কা দিন।

এতে পায়ের কাফ মাসলে টান পড়বে।কোয়াড্রিসেপস বা উরুর সামনের মাংসপেশির স্ট্রেচিংঃ সোজা হয়ে দাড়িয়ে যেকোনা এক হাঁটু ভাঁজ করে ওই পায়ের গোড়ালি নিতম্বের সঙ্গে লাগাতে চেষ্টা করুন। এতে উরুর সামনের মাংসপেশিতে টান পড়বে।

হ্যামস্ট্রিং বা উরুর পেছনের মাংসপেশি স্ট্রেচিংঃটুল বা বেঞ্চের ওপর এক পা সোজা করে রেখে পায়ের পাতা এক হাত দিয়ে নিজের দিকে টানতে হবে। এতে উরুর পেছনের মাংস পেশিতে টান লাগবে।নিতম্ব বা হিপের সামনের মাংসপেশির ষ্ট্রেচিংঃ ডান হাঁটু ভাঁজ করে বসে বাম পায়ের পাতা সোজাভাবে ফ্লোরে রাখুন। এরপর সানে ঝুঁকুন। একইভাবে অন্য পায়ের জন্য করুন । এতে নিতম্বের সামনের মাংসপেশি টান হবে।

ইলিওটিবিয়াল ব্যান্ড স্ট্রেচিং: এক পায়ের সামনে অন্য পা ক্রস করে চাপ দিন। এতে ইলিওটিবিয়াল ব্যান্ডে টান পড়বে।

অবস্থাগত কোমর ব্যথা সায়াটিকা রোগ বা ডিস্ক প্রলেপস রোগের ব্যায়ামঃ  প্রথমে সতর্কতার সঙ্গে উপুড হয়ে শুয়ে পড়–ন। এবার কনুইয়ের ওপর ভর করে বুক ও মাথা খুব ধীরে ধীরে ওপরে ওঠান প্রতি বেলায় ছয় বার করুন।উপুড় হয়ে শুয়ে পড়–ন্ এ অবস্থা থেকে দুই হাতের তালুর উপর ভর দিয়ে মাথা ও বুক তুলুন, যেন তলপেট বিছানায় লাগানো থাকে। পাঁচ সেকেন্ড এভাবে থাকুন। ব্যায়মটি ১০ বার করুন।উপুর হয়ে শুয়ে পরুন। হাত দুটি কোমরের পেছনে রাখুন।

এ অবস্থায় নিচের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে মাথা ও বুক ওপরের দিকে ওঠান। পাচ সেকেন্ড রাখুন। আস্তে আস্তে নামান। দিনে দুই বেলা পাচ থেকে ১০ বার করুন।উপুড় হয়ে শুয়ে পড়–ন। বুক ও মাথা মেঝের সঙ্গে লাগিয়ে রাখুন। এবার দুই হাত একসঙ্গে দু-তিন ইঞ্চি উঠিয়ে কয়েক সেকেন্ড রাখুন এবার ডান হাত ও বাম পা একসঙ্গে উঠিয়ে কয়েক সেকেন্ড রাখুন, এবার নামিয়ে ফেলুন। একইভাবে বাম হাত ও ডান পা উঠিয়ে নামিয়ে ফেলুন।

স্পন্ডইলসিস, মাংসপেশি বা লিগামেন্টজনিত সমস্যা, ম্নায়বিক সমস্যাজনিত ব্যায়ামঃ১. চিৎ হয়ে শুয়ে হাত দুটো ভাঁজ করে বুকের ওপর রাখুন, হাঁটু দুটি ভাজ করুন। এবার আস্তে আস্তে মাথা, কাঁধ ও পিঠ ফ্লোর বা বিছানা থেকে ওপরে তুলুন, বেশি ওপরে তুলবেন না। (যাদের ঘাড়ে ব্যাথা আছে তারা ও ব্যায়ামটি করার সময়ে মাথার পেছনে হাত রাখুন)২. চিৎ হয়ে শুয়ে পড়–ন। এবার ডান পা ভাঁজ করে বুকের কাছে নিয়ে আসুন, পা সোজা করে আস্তে আস্তে নামিয়ে ফেলুন। একইভাবে অন্য পায়ের জন্য করুন।৩. তৃতীয়  ব্যায়ামটি আগের ব্যায়ামের মতো একটি ব্যায়াম। সোজা হয়ে দাঁড়ান। এবার কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে পেছনে ঝুকুন। এবার ধীরে ধীরে সোজা হন।

অ্যারোবিক ব্যায়ামঃস্ট্রেচিং ব্যায়াম ও নির্দিস্ট ব্যায়াম ছাড়াও মেরুদন্ডের সুস্থতা ও কোমর ব্যথার জন্য প্রয়োজন অ্যারোবিক ব্যায়াম। যেমনঃ- সাতার কাটা। নিয়মিত হাটা। আস্তে দৌড়ানো।দৈনন্দিন কাজে সতর্কতাঃনিচ থেকে কিছু তোলার সময়ঃ
ক্স কোমর ভাঁজ করে কিংবা ঝুঁকে তুলবেন না। হাটু ভাজ করে তুলুন।

কোন কিছু বহন করার সময়ঃক্স ঘাড়ের ওপর কিছু তুলবেন না।ক্স ভারী জিনিস শরীরের কাছাকাছি রাখুন।ক্স পিছের ওপর ভারী বিছু বহন করার সময় সামনের দিকে ঝুঁকে বহন করুন।দাঁড়িয়ে থাকার সময়ঃ ক্স ১০ মিনিটির বেশি দাঁড়িয়ে থাকবেন না।ক্স হাটু না ভেঙে সামনের দিকে ঝুকবেন না।ক্স দীর্ঘক্ষণ হাটতে বা দাড়াতে হলে উচু হিল পরবেন না।ক্স অনেকক্ষণ দাঁড়াতে হলে কিছুক্ষণ পর পর শরীরের ভর এক পা থেকে অন্য পায়ে নিন।ক্স দীর্ঘক্ষণ দাাঁড়িয়ে থাকতে হলে ছোট ফুট রেন্ট ব্যবহার করুন।
যানবাহনে চড়ার সময়ঃ ক্স গাড়ি চালানোর সময় স্টিয়ারিং হুইল থেকে দূরে সরে বসবেন না। সোজা হয়ে বসুন।ক্স ভ্রমণে ব্যাথার সময় লাম্বার করসেট ব্যবহার করুন।

বসে থাকার সময়ঃ ক্স আপনার চেয়ারটি টেবিল থেকে বেশি দূরে নেবেন না।ক্স সামনে ঝুঁকে কাজ করবেন না।ক্স কোমরের পেছনে সাপোর্ট দিন।ক্স এমনভাবে বসুন যাতে উরু মাটির সমান্তরালে থাকে।ক্স নরম গদি বা স্প্রিং যুক্ত বা চেয়ারে বসবেন না।
শোয়ার সময়ঃক্স উপুড় হয়ে শোবেন না। ভাঙা খাট, ফোম বা স্প্রিংয়ের খাটে শোবেন না।ক্স সমান তোশক ব্যবহার করুন।ক্স বিছানা শক্ত, চওড়া ও সমান হতে হবে। শক্ত বিছানা বলতে কিছুর ওপর পাতলা তোশক বিছানোকে বোঝায়।

মেয়েরা যেসব নিয়মকানুন মেনে চলবেনঃঅল্প হিলের জুতো বা স্যান্ডেল পরুন, বিভিন্ন জুতোর হিলের উচ্চতা বিভিন্ন না হওয়াই উচিত।তরকারি কাটা, মসলা পেষা, কাপড় কাচা ও ঘর মোছার সময় মেরুদন্ড সাধারণ অবস্থায় এবং কোমর সোজা রাখুন।কোমর ঝুঁকে বাচ্চাকে কোলে নেবেন না । ঝাড় দেওয়া, টিউবওয়েল চাপার সময় কোমর সোজা রাখবেনপানি ভরা কলস বা বালতি, ভারী আসবাবপত্র তুলতে প্রথমে হাটু ভাজ করে বসবেন এবং কোমর সোজা রাখবেন।

মার্কেটিং বা শপিংয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে হলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট দাঁড়ানো বা হাঁটার পরে বিশ্রামের জন্য একটু বসবেন।বিছানা গোছানোর সময় কোমর ভাঁজ না-করে বরং হাঁটু ভেঙে বসা উচিত।কোমর ব্যথা বেশি হলে বিছানা থেকে শোয়া ও ওঠার নিয়মঃচিৎ হয়ে শুয়ে এক হাটু ভাজ করুন। এবার ধীরে  ধীরে এক পাশ কাত হোন।পা দুটি বিছানা থেকে ঝুলিয়ে দিন, এবার কাত হওয়া দিকের হাতের কনুই এবং অপর হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে ধীরে ধীরে উঠে বসুন।দুই হাতের উপর ভর দিয়ে সামনে ঝুঁকে দাঁড়ান।

ডাঃ মোঃ সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন ও ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ

ডিপিআরসি হাসপাতাল২৯ প্রবাল হাউজিং, রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭।

মোবাইল নংঃ- ০১৭৩-২২০০৬৯৭

Read More