All Posts in Category: স্বাস্থকথা

আথ্রাইটিস রোগ ও প্রতিকার, প্রশ্ন ও উত্তর

 

প্রশ্নঃ আথ্রাইটিস বলতে বুঝায়?

উত্তরঃ আথ্রাইটিস একটি গ্রীক শব্দ। মানুষের শরীরের জোড়ার অনেক গুলো রোগ বা সমস্যাকে এক সাথে আথ্রাইটিস বলা হয়। আর আথ্রাইটিস সম্পর্কে জানার আগে আমাদের মানুষের জয়েন্ট বা অস্তি সন্ধি সর্ম্পকে ধারণা থাকতে হবে। মানুষের শরীরে বহু জয়েন্ট বা জোড়া রয়েছে এবং এই সব জোড়া তিন প্রকার আর এসব জোড়ায় যদি কোন ভাবে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন হয় তখন আমরা ডাক্তারী ভাষায় আথ্রাইটিস বলে থাকি। আমাদের বাংলাদেশে আথ্রাইটিসে আক্রান্ত হলে অনেকে একে বাত রোগ বলে থাকে।

 

প্রশ্নঃ আথ্রাইটিস হলে আমরা কিভাবে বুঝব রোগী আথ্রাইটিসে আক্রান্ত হয়েছেন?

উত্তরঃ প্রথমেই বলব ব্যথা, এক বা একাধিক জোড়ায় ব্যথা হবে। জোড়া ফুলেযেতে পারে, গরম হতে পারে, নড়া চড়ায় ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে পারে, রোগীর দৈনন্দিন কাজকর্ম, চলাফেরায় অসুবিধা হবে। অনেক সময় জ্বরও আসতে পারে, পাশা-পাশি শরীর ক্লান্ত বোধ, অবসাদ, হতাশা, অনিদ্রা দেখা দিতে পারে। এভাবে চলতে থাকলে আস্তে আস্তে রোগী তার দেহের জোড়ার কর্ম ক্ষমতা বা নড়াচড়ার ক্ষমতা হারায় এবং জোড়া সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে রোগী পঙ্গুত্ব বরন করতে পারে। অনেক সময় দীর্ঘদিন রোগেভোগে শরীরের মাংস পেশী গুলোও শুকিয়ে যেতে পারে।

 

প্রশ্নঃ আথ্রাইটিস কত প্রকার?

উত্তরঃ আথ্রাইটিস একশত এরও বেশী প্রকার। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে। অস্টিওআথ্রাইটিস, রিউমার্টয়েড আথ্রাইটিস, এনকাইলজিং স্প্যান্ডালাইটিস, গাউট, জুভেনাইল আথ্রাইটিস যা বাচ্চাদের হয়, সোরিয়াটিক আথ্রাইটিস, রি-একটিভ আথ্রাইটিস, সেপটিক আথ্রাইটিস, স্কে¬রোডারমা, এস এল ই, তাছাড়া অন্যান্য রোগের কারণেও আথ্রাইটিস হতে পারে।

 

প্রশ্নঃ আথ্রাইটিস কাদের এবং কোন বয়সে বেশি হয়?

উত্তরঃ আথ্রাইটিস সাধারণত বয়স্কদের বেশি হয়। তবে বাচ্চাদেরও হয়ে থাকে। যে কোন বর্ণের যে কোন বয়সে যে কোন সংস্কৃতির মানুষের আথ্রাইটিস হতে পারে। তবে পরুষদের তুলনায় মহিলাদের আথ্রাইটিস বেশী হয়।

 

 

প্রশ্নঃ আথ্রাইটিস রোগের চিকিৎসা ও প্রতিকার কি?

উত্তরঃ আথ্রাইটিস জোড়ার রোগ ও বিভিন্ন প্রকার আথ্রাইটিস রয়েছে। যদি কারো এ জাতীয় সমস্যা হয় তা হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হব্ ।চিকিৎসক এ ক্ষেত্রে কিছু পরীক্ষা করাতে পারেন। যেমনঃ রক্ষ পরীক্ষা, সে রোজলী পরীক্ষা, এক্সরে পরীক্ষা, চিকিৎসক রোগী দেখেও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করে বুঝতে পারেন যে রোগীর কি জাতীয় আথ্রাইটিস হয়েছে। আথ্রাইটিসের প্রকার ভেদে কিছু ঔষধ খেয়ে যেতে হয়। যেমনঃ ব্যথা নাসক এন এস এ আই ডি এস, ডিজিজ মডিফাইং ঔষধ, আথ্রাইটিসে ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত কার্যকরী চিকিৎসা। এতে অনেকাংশে রোগীর সমস্যা, ব্যথা-বেদনা দুর হয় এবং রোগী স্বাভাবিক চলাফেরা কাজকর্ম করতে পারেন। ফিজিও থেরাপিতে ইলেকট্রোমেগনেটিক রেডিয়েশন, আলট্রাসাইন্ড থেরাপি, ইন্টারফেরেন সিয়াল থেরাপি বিভিন্ন কৌশল গত ব্যায়াম, মেনূয়্যাল থেরাপি প্রয়োগের মাধ্যমে রোগীর সমস্যা বহুলাংশে লাঘব হয় ও অস্থি সন্ধি স্বাভাবিক তার কর্মক্ষমতা ফিরে পায় ফলে রোগী আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। তবে তার জন্য অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের শরানাপন্ন হতে হবে। অনেক সময় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার পাশাপাশি বিভিন্ন অর্থোসিস এর প্রয়োজন হতে পারে। ঠান্ডায় আথ্রাইটিসের ব্যথা ও সমস্যা বেড়ে যায় তাই ঠান্ডা থেকে দূরে থাকতে হবে। কুসুম গরম পানির সেকে ব্যথা নিরাময়ে কার্যকরী চিকিৎসা, কুসুম গরম পানিতে গোসল করা যেতে পারে। চিকিৎসকের নির্দেশমত ব্যায়াম নিয়মিত করতে হবে। নিয়মিত হাটা চলাফেরা করতে হবে। অত্যাধিক পরীশ্রম করা যাবে না, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে ওজন বেশী হলে ওজন কমাতে হবে, খাদ্য তালিকায় চর্বি ও আমিষ জাতীয় খাবারের পরিমান কমাতে হবে, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি আথ্রাইটিস রোধে ভাল ভূমিকা পালন করে। তাই ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি বাজার থেকেও কিনে খাওয়া যেতে পারে। দুধ, ডিম, মাছের কাটা, হাড় গোড়ে, বিভিন্ন ফলমূল ও শাকসব্জিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে তা খেতে হবে, লাইফ ইস্টাইল পরিবর্তন করতে হবে, নীচু জিনিস যেমন পিড়া বা ফ্লোরে অনেক্ষন বসে থাকা যাবে না, অত্যাধিক ভাড়ী বোঝা বহন করা যাবে না, অনেকক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাড়িয়ে থাকা যাবে না। ফোম বা জাজিমের বিছানায় শোয়া যাবে না, মদ্যপান ও ধূমপান বা তামাক জাতীয় কিছু গ্রহন করা সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ।

 

ডা. মোঃ সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগঃ-ডিপিআরসি হাসপাতাল( ২৯ প্রবাল হাউজিং,রিং-রোড,শ্যামলী,ঢাকা-১২০৭)
সিরিয়ালের জন্য ফোনঃ-  +8801997702001; +8801997702002
www.dprcbd.com
www.bdtodays.com
www.shafiullahprodhan.com
www.medicalbd.info
www.dhakatv.info

Read More

প্রশ্নঃ হাটু ও কোমর ব্যথার কারণগুলো কি? হাটু ও কোমর ব্যথার চিকিৎসা ও প্রতিকার কি?

উত্তরঃ পৃথিবীতে এমন কোন লোক নেই যে, তিনি জীবনের কোন না কোন সময়ে হাটু বা কোমর ব্যথায় ভুগেন নাই। শিশু থেকে শুরু করে মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে বৃদ্ধরা পর্যন্ত এ জাতীয় ব্যথায় ভুগে থাকেন। তবে বৃদ্ধ বয়স ও অত্যাধিক পরিশ্রমী পেশাজীবি মানুষ হাটু ও  কোমর ব্যথায় বেশী ভুগে থাকেন। হাটু ও কোমর ব্যথায় নানাবিধ কারণ রয়েছে।

যেমন, রোগীর হাটু বা কোমরের অস্বাভাবিক অবস্থান সেটা কৃষিকাজ করার সময় হতে পারে, দৈনন্দিন কাজের সময় হতে পারে। অনেক সময় হাটু বা কোমরে আঘাত পেলে, মাংস পেশী হঠাৎ ঠিড়ে গেলে বা মচকালে, হাড় ক্ষয় রোগ যেমন,আথ্রাইটিস, মেরুদন্ডের ডিক্সের সমস্যায়, নানাবিধ রোগে যেমন রিউমাটয়েট আথ্রাইটিস এনকাইলোজিং স্পন্ডলোসিস, বোনটিবি, বোন ক্যান্সার, অত্যাধিক কাজের চাপ, স্নায়ুবিক সমস্যা বা হাড় ভেঙ্গে গেলে। আর বাংলাদেশের পেক্ষাপটে এ সমস্যা অনেক বেশী তার কারণের মধ্যে অত্যাধিক পরিশ্রম, ভার বা ওজন বেশী বহন, শ্রমিক পেশাজীবি, কাজকর্ম বা চলাফেরার নিয়মের অজ্ঞাতা, অপুষ্টিজনিত সমস্যাই বেশী। চল্লিশ উর্ধ্ব মহিলাদের পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেলে ইস্ট্রোজেন নামক হরমনের অভাবে হাড় ও জোড়ার ক্ষয় হয় বা ছিদ্র হয়ে যেতে পারে। তা থেকেও হাটু কোমরে ব্যথা হতে পারে আর পঞ্চশ উর্ধ্ব পুরুষদের ও এ জাতীয়  সমস্য দেখা দিতে পারে। যাহা একটি বয়ঃবৃদ্ধি জনিত সমস্যা।

 

 

উত্তরঃ- প্রথমত, ব্যথা হওয়ার সাথে সাথে রোগীকে বিশ্রাম নিতে হবে। কাজ করা, ভারী বোঝা বহন বন্ধ রাখতে হবে। ব্যথার সাথে অবশ হয়ে যাওয়া বা অন্য কোন  সমস্য দেখা দিলে রুগিকে অবশ্যই নিকটস্থ চিকিৎসকের স্বরনাপন্ন হতে হবে। দীর্ঘদিন ব্যথায় কুসুম গরম সেখ খুবই উপকারে আসে। পাশাপাশি হাটু ও কোমরের নির্দিষ্ট ব্যায়াম ব্যথা সারাতে সাহায্য করে। ব্যথানাসক ঔষধ ও খাওয়া যেতে পারে তাবে তা অবশ্যই চিকিৎসকের নির্দিশে হতে হবে। কাজকর্ম চলাফেরায় রুগিকে সাবধান হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ঔষধের পাশাপশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা অনেক ফলদায়ক। ফিজিওথেরাপিতে ইলেকট্রোগনেটিক রেজিয়েশন, আল্ট্রাসাউন্ড ফেরাপি, ট্রাকশন, আই এফ টি, আই আর আর ও বিভিন্ন কৌশলগত ব্যায়াম চিকিৎসক দিয়ে থাকেন। রোগীকে কিছু উপদেশ মেনে চলতে হবে , যেমন- শরীরে ওজন বেশী হলে ওজন কমানো বা নিয়ন্ত্রনে রাখা, উপর হয়ে ভারি জিনিস না তোলা, কাজ করার সময় অনেক সময় ভারি বোঝা মেরুদন্ড সামনে উপর হয়ে তোলা তা না করে মেরুদন্ড সোজা রেখে কাজ করা, নিচু জিনিস বা মাটিতে দীর্ঘক্ষন বসে না থাকা, ফোম বা জাজিমের বিছানায় না শোয়া, দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসা বা দাড়িয়ে না থেকে কিছুক্ষণ পর পর অবস্থান পরিবর্তন করা, সেলুন বা বাসায় ম্যাসেজ না করা, মহিলারা হাই-হিলযুক্ত জুতা ব্যবহার না করা, পরিমিত কাজকর্ম বা হাটা চলাফেরা করতে হবে, সুষম খাবার খাওয়া, খাদ্য তালিকায় চর্বি জাতীয় খাবার কমিয়ে ফলমুল শাকসব্জী বেশী করে খাওয়া। ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি হাড় ও  জোড়ার জন্য খুবই ভাল ফলদায়ক। তা বাজার থেকে কিনেও খাওয়া যেতে পারে।

Read More

জেনে নেই কাঁধে ব্যথা বা ফ্রোজেন শোল্ডার কারন ও চিকিৎসা

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে বয়ঃবৃদ্ধিজনিত অনেক রকম সমস্যাই দেখা দেয়। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফ্রোজেন শোল্ডার। ডাক্তারী ভাষায় আরেক নাম পেরি-আথ্রাইটিস বা ক্যাপসুলাইটিস। তাছাড়া যারা দীর্ঘ দিন ডায়াবেটিসে ভোগেন, কাধে আঘাত পেলে বা কাধের মাংসপেশী মচকালে বা ছিড়ে গেলেও কাধে ব্যথা বা ফ্রোজেন সোল্ডার হতে পারে। অনেক সময় ঘাড়ের সমস্যা যেমন- স্পন্ডাইলাইটিস, সোল্ডার ডিসলোকেশন থেকেও কাধে ব্যথা হতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন ফ্রোজেন শোল্ডার হয়েছে?

  • যদি দীর্ঘদিন ধরে কাঁধের বড় জোড়ায় এক পাশ অথবা দুই পাশেই একটু একটু করে ব্যথা হয়।
  • ব্যথা জোড়ার চারপাশে হতে পারে অথবা বাহুর পাশ দিয়ে নিচেও নামতে পারে।
  • যে পাশে সমস্যা হয়, সেদিকে কাত হয়ে শুলে যদি ওইহাত নাড়াতে কষ্ট হয়।
  • দৈনন্দিন কাজে হাত নড়াচড়া করতে যদি ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়।
  • পিঠ চুলকাতে, ভাত খেতে, টয়লেট ব্যবহার করতে গেলে যদি কাঁধের জোড়ায় প্রচণ্ড ব্যথা হয়।
  • এভাবে চলতে চলতে আস্তে আস্তে যদি জোড়ার নড়াচড়া ও কর্মক্ষমতা বন্ধ হয়ে আসে।

এসব উপসর্গ থাকলে বুঝে নিতে হবে, আপনার ফ্রোজেন শোল্ডার হয়েছে।

চিকিৎসা:- সাধারণত চিকিৎসকরা বিভিন্ন ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে থাকেন এবং পাশাপাশি স্টেরয়েড জাতীয় ইনজেকশন জোড়ার ভেতর প্রয়োগ করে থাকেন। যেহেতু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, সে জন্য আপনাকে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ফিজিওথেরাপি হচ্ছে এ রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন অত্যাধুনিক চিকিৎসা।  ফ্রোজেন শোল্ডার সমস্যায় সাধারণত যেসব চিকিৎসা দেওয়া হয় তা হচ্ছে- আইএফটি, আলট্রাসাউন্ড থেরাপি, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন, বিভিন্ন মবিলাইজিং এক্সারসাইজ, ম্যানুপুলেশন প্রভৃতি।

পরামর্শঃ ব্যথার স্থানে গরম সেঁক দিতে পারেন। তবে কোনো রকম মালিশ করা যাবে না। চিকিৎসকের নির্দেশমতো নিয়মিত ব্যায়াম করবেন। যে পাশে জোড়ার সমস্যা, সেদিকে কাত হয়ে শোবেন না। ভারী জিনিস টানবেন না। ডায়াবেটিস থাকলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

 

ডা. মোঃ সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগঃ-ডিপিআরসি হাসপাতাল( ২৯ প্রবাল হাউজিং,রিং-রোড,শ্যামলী,ঢাকা-১২০৭)
সিরিয়ালের জন্য ফোনঃ-  +8801997702001; +8801997702002
www.dprcbd.com
www.bdtodays.com
www.shafiullahprodhan.com
www.medicalbd.info
www.dhakatv.info

 

 

Read More

টেনিস এলবো কনুই ব্যথার অন্যতম কারন

 

টেনিস এলবো একটি ইনজুরি জাতীয় হাতের সমস্যা। টেনিস খেলোয়াড়দের এই সমস্যা বেশী দেখা দেয় বলে একে টেনিস এলবো বলা হয়। এ জাতীয় সমস্যা অন্য খেলোয়াড়দেরও হতে পারে। ক্রিকেট, গলফ, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, তীর নিক্ষেপ ইত্যাদি খেলায়ও ভুল টেকনিকের কারনে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এ সমস্যার কারনে খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিন খেলার বাহিরে থাকতে হয়। তাছাড়া সাংবাদিক, শিক্ষক, ছাত্র, গৃহিনী, মিস্ত্রি, শ্রমিক, যাদের হাতের কাজ বেশী করতে হয়, তাদেরও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে । সমস্যার শুরুতে হাতের কনুইয়ের বাহিরের দিকে ব্যথা অনুভব হয়, হাতের নড়াচাড়া বা কাজকর্মে ব্যথা তীব্র থেকে তীবতর হতে পারে, ব্যথা কনুই থেকে শুরু হয়ে হাতের বাহিরের পাশ দিয়ে আঙ্গুল পর্যন্ত যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রোগী জোড়ার ভিতর ব্যথা অনুভব করে, কনুইয়ের বাহিরের দিকে চাপ দিলে প্রচন্ড ব্যথা অনুভাব করে, দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে থাকলে হাতের মাংপেশীর শক্তি ও হাতের কর্র্মক্ষমতা কমে আসে, যার ফলে হাত প্যারালাইসিসে আক্রন্ত হতে পারে। কনুই ব্যথার আরো কারনের মধ্যে গলফারস এলবো, আথ্রাইটিস, বোন ক্যান্সার, বোন ঢিবি, অষ্ট্র্রিওপোরোসিস, বার্সাইটিশ উল্লেখযোগ্য।

যাদের এজাতীয় সমস্যা হচ্ছে তারা অবশ্যই একজন ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণ করলে নিয়মিত থেরাপির মাধ্যমে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। টেনিস এলবো চিকিৎসা আইসথেরাপি,  ইলেক্ট্রোমেগনেটিক রেডিয়েশন আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি, স্ট্রেপিং ও বিভিন্ন ব্যয়াম দেয়া হয়ে থাকে। চিকিৎসারত অবস্থায় কিছুদিন হাতের বিভিন্ন কাজ বন্ধ রাখতে হয়।

 

ডা. মোঃ সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগঃ-ডিপিআরসি হাসপাতাল( ২৯ প্রবাল হাউজিং,রিং-রোড,শ্যামলী,ঢাকা-১২০৭)
সিরিয়ালের জন্য ফোনঃ-  +8801997702001; +8801997702002
www.dprcbd.com
www.bdtodays.com
www.shafiullahprodhan.com
www.medicalbd.info
www.dhakatv.info

Read More

প্যারালাইসিস ও চিকিৎসা

প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাত গ্রস্থ হচ্ছে মানুষের শরীর কোন অংশের মাংস পেশীর কর্ম ক্ষমতা হারানো। মাংসপেশী শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের নাড়াচড়া করিয়ে থাকে, আর যদি ঐ অংশের মাংসপেশীর কর্ম ক্ষমতা হারায় তখন রোগী শরীরের ঐ অংশের নড়াচড়া করার ক্ষমতা হারায়। অনেক সময় ঐ অংশের বোধ বা অনুভূতির শক্তিও হারিয়ে ফেলে।


প্যারালাইসিস যেকোন বয়সে, যে কোন কারনে যদি হয়েই যায় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়া উচিত। আমাদের সবার উচিত এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া। প্যারালাইসিস রোগীদের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে পূর্নবাসন তথা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, প্যারালাইসিসের প্রধান কারনই হচ্ছে রোগীর স্নায়ু বা নার্ভাস সিসটেম অকেজো হওয়া। স্নায়ুই মুলত মানুষের মাংসপেশীতে এক প্রকার বৈদ্যুতিক শক্তি প্রেরন করে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নাড়াচড়া করতে সাহায্য করে। আর যখনই স্নায়ু বা নার্ভাস সিসটেম অকেজো হয় তখন রোগী প্যারালাইসিস এ আক্রান্ত হয়। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে ব্রেইন ষ্ট্রোক, স্পাইনালকর্ড ইনজুরি, নার্ভ ইনজুরি, এমায়েট্রপিক লেটেরাল স্ক্লেরোসিস, বটুলিজিম যাহা এক প্রকার টক্সিসিটি, মালটিপল স্ক্লেরোসিস, জিবিএস। তাছাড়া মাংস পেশীর রোগ মাসকুলার ডেসট্রপি হলেও প্যারালাইসিস হয়ে থাকে। শিশুদের পলিও রোগ, সেরিব্রাল পলসি উল্লেখ যোগ্য।


 

যেহেতু প্যারালাইসিস বা প্রক্ষাঘাত গ্রস্থ হওয়ার নানাবিধ কারন রয়েছে তাই সর্ব প্রথম আমাদের খেয়াল রাখতে হবে রোগী কি কারনে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হলো। হঠাৎ করে প্যারালাইসিস হলেও রোগীকে সাথে সাথে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে, তা না হলে রোগীর জীবন বিপন্ন হতে পারে। রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে। আমাদের দেশে প্যারালাইসিস এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ব্রেইন স্ট্রোক। মস্তিস্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হলে বা রক্তণালী ছিড়ে গেলে স্ট্রোক হয়ে থাকে। তার জন্য কিছু কারণ দায়ী। যেমন- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, রক্তে কলেস্ট্ররেলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, হাইপোসাইথেমিয়া, থ্রম্বসাইথেমিয়া, আঘাত পেলে, মদ্য পান, জন্ম নিয়ন্ত্রন ঔষধ এবং বংশগত। তাই স্ট্রোক প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। ধূমপান বা মাদক দ্রব্য পরিহার করতে হবে। নিয়মিত গোসল, হাটা চলাফেরা করতে হবে। হঠাৎ উত্তেজিত হওয়া যাবে না। পরিমিত সুষম খাবার খেতে হবে, খাদ্য তালিকায় অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার, ফার্স্ট ফুড পরিহার করতে হবে। পরিমিত ঘুমাতে হবে। শিশুদের প্যারালাইসিসের অন্যতম কারন পলিও। তাই সব শিশুকে পলিও টিকা খাওয়ানো উচিত। এ ব্যাপারে শিশুদের অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।


 

প্যারালাইসিসের চিকিৎসার ক্ষেত্রে একিউট বা ক্ষনস্থায়ী অবস্থা এবং ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা এই দুভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে। একিউট স্টেজ এ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রাখতে হয়। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকগণ প্যারালাইসিসের কারণ নির্ণয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। অনেক সময় রোগীকে লাইফ সার্পোট দিতে হয়। আর ক্রনিক স্টেজে রোগীর দেখা যায় শরীরের এক পাশ প্যারালাইসিস বা যেকোন একহাত বা এক পা বা দু’পা বা চার হাত পা প্যারালাইসিস আক্রন্ত হতে পারে। প্যারালাইসিস রোগীকে ঔষধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে এবং ফিজিওথেরাপী চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে পূর্ণবাসন করা সম্ভব, তার জন্য প্রথম দিন হতেই ফিজিওথেরাপিষ্টের তত্তাবধানে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। ফিজিওথেরাপী চিকিৎসায় চিকিৎসক বিভিন্ন কৌশলগত ব্যায়াম করিয়ে থাকেন, পাশা-পাশি বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ইলেকট্রোথেরাপী, প্রয়োজনে অর্থসিস বা প্রসথেসিস এর মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।


ডা. মোঃ সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগঃ-ডিপিআরসি হাসপাতাল( ২৯ প্রবাল হাউজিং,রিং-রোড,শ্যামলী,ঢাকা-১২০৭)
সিরিয়ালের জন্য ফোনঃ-  +8801997702001; +8801997702002
www.dprcbd.com
www.bdtodays.com
www.shafiullahprodhan.com
www.medicalbd.info
www.dhakatv.info

 

Read More