বাতের ব্যাথায় করনীয় কি? বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শে

তাই বাতের ব্যথা নিয়ে কষ্ট না পেয়ে যতদ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিতে হবে এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাহারা বাতের ব্যথায় ভূগছেন তারা একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের চিকিৎসা ও পরামর্শে ভাল থাকতে পারেন। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিহীন অত্যান্ত আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি।

চিকিৎসক আপনার রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা ও পরামর্শ দিলে আপনি অবশ্যই বাতের কষ্ট থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন, পাশাপাশি থাকবেন কর্মক্ষম। ফিজিওথেরাপিতে সাধারণতঃ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রোমেডিকেল যন্ত্রপাতি যেমনঃ সর্টওয়েভ ডায়ার্থামমি, আলট্রাসাউন্ড থেরাপি, ইন্টারফেরেনশিয়াল থেরাপি, ইনফারেড রেডিয়েষন, ট্রান্স কিউটেনিয়াস ইলেকট্রিক নার্ভ ইস্টিমুলেটর, ইলেকট্রিক নার্ভ ও মাসেল ইষ্ট্রিমুলেটর, ওয়াক্সবাথ থেরাপি, অটো ও মেনুয়াল ট্রাকশন, হাইড্রোথেরাপি, ও চিকিৎসক বিভিন্ন কৌশগত ব্যয়াম করিয়ে থাকেন।

যেহেতু ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসকের কলা কৌশল নির্ভর তাই দেখে শুনে ভাল ফিজিওথেরাপি সেন্টারে চিকিৎসা ও পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি নিম্নলিখিত পরামর্শ মাফিক চললেও বাতের ব্যথা থেকে অনেক অংশে লাঘব থাকা যায়ঃ

১.   ব্যথা বেশী হলে ৭দিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিবেন।

২.   নিয়মিত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিবেন।

৩.   ব্যথার জায়গায় গরম/ঠান্ডা স্যাক দিবেন ১০-১৫ মিনিট।

৪.   বিছানায় শোয়া ও উঠার সময় যেকোন একদিকে কাত হয়ে হাতের উপর ভর দিয়ে শোবেন ও উঠবেন।

৫.   মেরুদন্ড ও ঘাড় নীচু করে কোন কাজ করবেন না।

৬.   নীচু জিনিস যেমন- পিড়া, মোড়া বা ফ্লোরে না বসে চেয়ারে পীঠ সাপোর্ট দিয়ে মেরুদন্ড সোজা করে বসবেন।

৭.   ফোম ও জাজিমে না শোয়ে উচু শক্ত সমান বিছানায় শোবেন।

৮.  মাথায় বা হাতে ভারী ওজন/ বোঝা বহন নিষেধ।

৯.   দাঁড়িয়ে বা চেয়ারে বসে রান্না করবেন।

১০.  ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের নির্দেশমত দেখানো ব্যায়াম নিয়মিত করবেন, ব্যথা বেড়ে গেলে ব্যায়াম বন্ধ রাখবেন।

১১.  শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন, পেট ভরে খাওয়া নিষেধ, অল্প অল্প করে বার বার খাবেন।

১২.  কোন প্রকার মালিশ করা নিষেধ।

১৩.  দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাড়িয়ে থাকবেন না, ১ ঘন্টা পর পর অবস্থান বদলাবেন।

১৪.  শোবার সময় একটি পাতলা নরম বালিশ ব্যবহার করবেন।

১৫.  হাই হিল যুক্ত জুতা ব্যবহার করবেন না, নরম জুতা ব্যবহার করবেন।

১৬.  ব্যথা তীব্র হলে উঁচু কমোডে বসে টয়লেট করবেন।

১৭.  চলাফেরায় ঝুকিপূর্ণ যানবাহন ও রাস্তা এড়িয়ে চলবেন ও সামনের বা মাঝামাঝি আসনে বসবেন।

ব্যথা কমে গেলে নিয়মিত সমতল জায়গায় কমপক্ষে ১ ঘন্টা হাটুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen + 20 =