বাতজ্বর এর লক্ষন ও চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন ও উত্তর দিয়েছেন ড. মোঃ সফিউল্যাহ্ প্রধান

বাতজ্বর (Rheumatic fever) একটি প্রদাহজনিত রোগ যা হার্ট, জয়েন্ট, চর্ম, মস্তিষ্ক কে আক্রান্ত করতে পারে। সাধারণত গলায় সংক্রমণের ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পরে এই রোগ শুরু হয়। বিটা-হিমোলাইটিক স্ট্রেপটোকক্কাস নামক এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে এই রোগ হয়। বাতজ্বর রোগীদের বয়স সাধারণত ৫ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। আবার ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যেও এই রোগ হতে পারে।

বাতরোগের অনেক উপসর্গ ও বাতজ্বরের অনেক উপসর্গের মধ্যে মিল থাকায় এই রোগের নাম রাখা হয়েছে বাতজ্বর। বাতজ্বরের সাধারন লক্ষণসমূহ হচ্ছে জ্বর, জয়েন্টে ব্যথা, ইরায়থেমা মারজিনেটাম ইত্যাদি। এ রোগে প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই হার্ট আক্রান্ত হয়। এই রোগে ব্যক্তির নিজের শরীরের টিস্যুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। আবার যাদের শরীরে এই রোগের জিন রয়েছে তারা অন্যদের তুলনায় খুব সহজেই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়াও পুষ্টিহীনতা, দারিদ্র্য ইত্যাদি কারনেও এ রোগ হয়।

প্রশ্নঃ  বাত জ্বর আসলে কি জাতীয় রোগ?

উত্তরঃ  আপনি আমাকে একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ রোগ সর্ম্পকে প্রশ্ন করেছেন। আমাদের দেশে বাতজ্বর একটি বহুল আলোচিত রোগ। বাত জ্বর একটি অটোইমিউন শারীরিক সমস্যা। এই রোগ গ্রুপ এ বিটাহেমোলাইটিক স্ট্রেপটোকক্কাস নামক এক প্রকার আনুবিক্ষণীক জিবানুর কারণে হয়ে থাকে।

প্রশ্নঃ  বাত জ্বর এর সাথে বাত ব্যথার পার্থক্য কি?

উত্তরঃ  আরোকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন। আমাদের দেশে সাধারণ মানুষ এই দুটি সমস্যাকে অনেক সময় এক নজরে দেখে। আসলে দুটো দুই রকম শারীরিক সমস্যা। আমি আগেই বলেছি বাত জ্বর হয় শারীরে এক প্রকার জিবানুর সংক্রমনে। আর বাত ব্যথা হচ্ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাজ কর্ম, চলাফেরা, উঠা বসার সমস্যা ও বয়বৃদ্ধির কারণে হাড় ও জোড়ার পরিবর্তন ও কিছু জৈবিক উপদানের কারণে সৃষ্ট শরীরের ব্যথা বেদনা।

প্রশ্নঃ বাত জ্বর কোন বয়সে হয়ে থাকে, এবং এর লক্ষন গুলো কি কি?

উত্তরঃ  বাত জ্বরে সাধারনত বাচ্চারা ভুগে থাকে। এর রোগ পাঁচ বছর বয়স থেকে পনের বছর বয়স পর্যন্ত এবং পূর্ণ যৌবন হওয়ার আগ বয়স পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর এ রোগের  লক্ষন শুরু হয় গলা ব্যথা দিয়ে যাকে “ফেরিনজাইটিস” বলা হয়ে থাকে তা ছাড়া রোগীর গিঁটে গিঁটে ব্যথার সাথে ১০২-১০৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস জ্বর হয়ে থাকে। সারা শরীরে ব্যথা হয় অনেক সময় বড় জোড়া গুলো ফুলে যেতে পারে। বুকে ব্যথা হতে পারে, চর্মে কিছু কিছু জায়গাই পরিবর্তন আসে এবং দ্রুত চিকিৎসা না করালে অনেক সময় রোগীর হার্টের বাল্ব নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

প্রশ্নঃ বাত জ্বরের চিকিৎসা কি?

উত্তরঃ  প্রথমেই এই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন করতে হবে। আর আমাদের দেশে বাত জ্বরের উপর সরকারী ভাবে চিকিৎসা কেন্দ্র ঢাকার শেরে বাংলা নগরে আছে। ওখানেও সম্ভব হলে রোগীকে পাঠিয়ে যেতে পারে। চিকিৎসক রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ দেখে সঠিক রোগ নির্ণয় এর মাধ্যমে এর রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।  রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসক এর রোগের কার্ডিনাল সাইন দেখে ও  কিছু ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে করে থাকেন। আর বাত জ্বর নির্ণয় হয়ে গেলে চিকিৎসা কিছু ঔষধের মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকে যেমনঃ এসপ্রিন, প্রেডনিসোলন, এন্টিবায়োটিক। পাশাপাশি রোগীকে বিশ্রম নিতে হবে। এ জাতীয় রোগীকে দীর্ঘ দিন চিকিৎসকের পর্যবেক্ষনে থাকতে হয়।ফিজিও/রিহাব থেরাপি এই রোগের অন্যতম চিকিৎসা, ইহা রোগ পরবর্তী ব্যথা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve + seventeen =