প্রশ্নঃ হাটু ও কোমর ব্যথার কারণগুলো কি? হাটু ও কোমর ব্যথার চিকিৎসা ও প্রতিকার কি?

উত্তরঃ পৃথিবীতে এমন কোন লোক নেই যে, তিনি জীবনের কোন না কোন সময়ে হাটু বা কোমর ব্যথায় ভুগেন নাই। শিশু থেকে শুরু করে মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে বৃদ্ধরা পর্যন্ত এ জাতীয় ব্যথায় ভুগে থাকেন। তবে বৃদ্ধ বয়স ও অত্যাধিক পরিশ্রমী পেশাজীবি মানুষ হাটু ও  কোমর ব্যথায় বেশী ভুগে থাকেন। হাটু ও কোমর ব্যথায় নানাবিধ কারণ রয়েছে।

যেমন, রোগীর হাটু বা কোমরের অস্বাভাবিক অবস্থান সেটা কৃষিকাজ করার সময় হতে পারে, দৈনন্দিন কাজের সময় হতে পারে। অনেক সময় হাটু বা কোমরে আঘাত পেলে, মাংস পেশী হঠাৎ ঠিড়ে গেলে বা মচকালে, হাড় ক্ষয় রোগ যেমন,আথ্রাইটিস, মেরুদন্ডের ডিক্সের সমস্যায়, নানাবিধ রোগে যেমন রিউমাটয়েট আথ্রাইটিস এনকাইলোজিং স্পন্ডলোসিস, বোনটিবি, বোন ক্যান্সার, অত্যাধিক কাজের চাপ, স্নায়ুবিক সমস্যা বা হাড় ভেঙ্গে গেলে। আর বাংলাদেশের পেক্ষাপটে এ সমস্যা অনেক বেশী তার কারণের মধ্যে অত্যাধিক পরিশ্রম, ভার বা ওজন বেশী বহন, শ্রমিক পেশাজীবি, কাজকর্ম বা চলাফেরার নিয়মের অজ্ঞাতা, অপুষ্টিজনিত সমস্যাই বেশী। চল্লিশ উর্ধ্ব মহিলাদের পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেলে ইস্ট্রোজেন নামক হরমনের অভাবে হাড় ও জোড়ার ক্ষয় হয় বা ছিদ্র হয়ে যেতে পারে। তা থেকেও হাটু কোমরে ব্যথা হতে পারে আর পঞ্চশ উর্ধ্ব পুরুষদের ও এ জাতীয়  সমস্য দেখা দিতে পারে। যাহা একটি বয়ঃবৃদ্ধি জনিত সমস্যা।

 

 

উত্তরঃ- প্রথমত, ব্যথা হওয়ার সাথে সাথে রোগীকে বিশ্রাম নিতে হবে। কাজ করা, ভারী বোঝা বহন বন্ধ রাখতে হবে। ব্যথার সাথে অবশ হয়ে যাওয়া বা অন্য কোন  সমস্য দেখা দিলে রুগিকে অবশ্যই নিকটস্থ চিকিৎসকের স্বরনাপন্ন হতে হবে। দীর্ঘদিন ব্যথায় কুসুম গরম সেখ খুবই উপকারে আসে। পাশাপাশি হাটু ও কোমরের নির্দিষ্ট ব্যায়াম ব্যথা সারাতে সাহায্য করে। ব্যথানাসক ঔষধ ও খাওয়া যেতে পারে তাবে তা অবশ্যই চিকিৎসকের নির্দিশে হতে হবে। কাজকর্ম চলাফেরায় রুগিকে সাবধান হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ঔষধের পাশাপশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা অনেক ফলদায়ক। ফিজিওথেরাপিতে ইলেকট্রোগনেটিক রেজিয়েশন, আল্ট্রাসাউন্ড ফেরাপি, ট্রাকশন, আই এফ টি, আই আর আর ও বিভিন্ন কৌশলগত ব্যায়াম চিকিৎসক দিয়ে থাকেন। রোগীকে কিছু উপদেশ মেনে চলতে হবে , যেমন- শরীরে ওজন বেশী হলে ওজন কমানো বা নিয়ন্ত্রনে রাখা, উপর হয়ে ভারি জিনিস না তোলা, কাজ করার সময় অনেক সময় ভারি বোঝা মেরুদন্ড সামনে উপর হয়ে তোলা তা না করে মেরুদন্ড সোজা রেখে কাজ করা, নিচু জিনিস বা মাটিতে দীর্ঘক্ষন বসে না থাকা, ফোম বা জাজিমের বিছানায় না শোয়া, দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসা বা দাড়িয়ে না থেকে কিছুক্ষণ পর পর অবস্থান পরিবর্তন করা, সেলুন বা বাসায় ম্যাসেজ না করা, মহিলারা হাই-হিলযুক্ত জুতা ব্যবহার না করা, পরিমিত কাজকর্ম বা হাটা চলাফেরা করতে হবে, সুষম খাবার খাওয়া, খাদ্য তালিকায় চর্বি জাতীয় খাবার কমিয়ে ফলমুল শাকসব্জী বেশী করে খাওয়া। ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি হাড় ও  জোড়ার জন্য খুবই ভাল ফলদায়ক। তা বাজার থেকে কিনেও খাওয়া যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × two =