উঠতি বয়সী বাচ্চাদের গ্রোথ পেইন

কেস স্ট্যাডি ঃবয়স ৬ বৎসর ঢাকার একটি নামকরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে নার্সারীতে পড়ে। প্লে গ্রুপে থাকা অবস্থায় ভালই ছিল। কিন্তু ইদানিং সে স্কুল থেকে আসার পর মার কাছে পা ব্যথার কথা বলে। মাঝে মাঝে ব্যথা বেড়ে গেলে কান্নাকাটিও করে। কিছু দিন কম থাকে আবার বেড়ে যায়। ¯েœহার বাবা-মা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে জানতে পারেন গ্রোথ পেইন জনিত সমস্যায় ভূগছে।

গ্রোথ পেইন হলো স্কুলে যাবে বা যেতে শুরু করেছে এমন শিশুদের দুই পায়ের মাংসপেশিতে এক ধরনের অস্বস্থিকর চাবানো প্রচন্ড থেকে মাঝারি মানের ব্যথা যা শেষ বিকেলে বা সন্ধ্যার পরে হতে পারে। এ ধরনের ব্যাথায় শিশুর মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে।গ্রোথ পেইন সাধারনত তিন-চার বছর বয়সে বেশি হয়ে থাকে। তারপর সে কিছুদিন ভালো থাকে। আবার তার ৮-১২ বছর বয়সে এ ব্যথা দেখা দিতে পারে। ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যাথায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা একটু বেশি।

কারন ঃযদিও এর নাম গ্রোথ পেইন, কিন্তু এটা শিশুদের বাড়ন্ত হাড়ের কোনো গাঠনিক পরিবর্তন-জনিত রোগ নয়।এটি শুধু শিশুদের প্রাত্যহিক জীবনে অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট একটি লক্ষন। অতিরিক্ত দৌড়ঝাপ, লাফালাফি, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রোথ পেইন হতে পারে। সাধারনত কোনো শিশু যদি সারা দিন খেলাধুলায় মত্ত থাকে তাহলে তার বেলায় এ ধরনের ব্যথা হওয়ার ঝুকি বেড়ে যায়।

লক্ষন ঃগ্রোথ পেইন -এর লক্ষনগুলো শিশুভেদে বিভিন্ন রকম হতে পারে। কারো ক্ষেত্রে অনেক ব্যথা থাকে আবার কারো থাকে না। বেশির ভাগ শিশুর বেলায় প্রতিদিন ব্যথা হয় না। এ ব্যথা আসে আর যায়। কখনো কারো ক্ষেত্রে কয়েক মাস এমনকি বছর পর্যন্ত ব্যথা থাকতে পারে। সাধারনত বিকেল বা সন্ধ্যার সময় অথবা কারো ক্ষেত্রে রাতের আহারের আগমুহূর্তে বা বিছানায় শুতে যাওয়ার আগমুহূর্তে ব্যথা হয়ে থাকে।

মাঝে মাঝে ব্যথা এত তীব্র হতে পারে, যা শিশুটিকে রাতে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে। ব্যথাটি সকালে সম্পূর্ণরূপে চলে যায়। এ ব্যথা শিশুর কর্মক্ষমতা এবং স্পৃহাকে কখনোই প্রভাবিত করে না।ব্যথা শিশুটির দুইপায়ে অনুভুত হতে পারে, যা সাধারনত হাঁটুর ওপরের এবং পেছনের মাংশপেশিতে পরিলক্ষিত হয়।গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুর গ্রোথ পেইন থাকে, তারা সাধারনত ব্যথার প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয় এবং তাদের এর সাথে মাথা ও পেটে ব্যথা থাকে।

রোগটি নির্ণয় ঃএকজন চিকিৎসক উপরিউক্ত লক্ষন গুলো নিয়ে যদি কোনো শিশু তার কাছে আসে তাহলে শিশুটিকে যথাযথ পরীক্ষা করে এবং তার সাথে কথা বলে রোগটি নির্ণয় করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাকে মাংসপেশির ব্যথার অন্য কারন গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নিয়ে সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে উপনিত হতে হবে। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা যেমন ঃ সিবিসি, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, বি১২ ইত্যাদি রক্ত পরীক্ষা করা যেতে পারে।

চিকিৎসা ঃগ্রোথ পেইন এর সুনির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। স্বস্তির সংবাদ হল এ রোগ কোন প্রকার জটিলতা সৃষ্টি করেনা এবং শিশুর দৈহিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোন প্রভাব ফেলে না। এটা সাধারনত নিজে নিজে এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সেরে যায়। শিশুকে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহ দিলে অনেক ক্ষেত্রেই তা বছরখানেকের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। গ্রোথ পেইন এর চিকিৎসা নির্ভর করে শিশুটির ব্যথার তিব্রতার ওপর। এ ক্ষেত্রে নিচের পদ্ধতিগুলো গ্রহন করলে শিশুটিকে স্বস্তি এবং ব্যথামুক্ত করা যায়:
Stretching Exercise(চিকিৎসকের দেখানো মতে, দুই পায়ের মাংসপেশিগুলোকে Stretching করা যায়) পায়ের মাংসপেশিতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে Massage করা যায়।পায়ের মাংসপেশিগুলোতে গরম পানির সেঁক দেয়া যায়, যা খুবই কার্যকর। তবে তা খুবই সতর্কতার সাথে দিতে হবে, যাতে পা পুড়ে না যায় এবং তা কখনওই ঘুমন্ত অবস্থায় দেওয়া যাবে না।অনেক ক্ষেত্রে শিশুকে ঘুমানোর আগে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করানো যেতে পারে(ডধৎস ইধঃয)।

তবে মাথায় অবশ্যই নরমাল পানি দিতে হবে।শিশুকে নিয়মিত সুষম খাবার দিতে হবে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ফলমুল, শাকসবজি পরিমিত খাওয়াতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে শিশুটি যেন বাহিরের খাবার না খায়। পাশাপাশি পরিমিত ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 + eighteen =