আথ্রাইটিস রোগ ও প্রতিকার, প্রশ্ন ও উত্তর

 

প্রশ্নঃ আথ্রাইটিস বলতে বুঝায়?

উত্তরঃ আথ্রাইটিস একটি গ্রীক শব্দ। মানুষের শরীরের জোড়ার অনেক গুলো রোগ বা সমস্যাকে এক সাথে আথ্রাইটিস বলা হয়। আর আথ্রাইটিস সম্পর্কে জানার আগে আমাদের মানুষের জয়েন্ট বা অস্তি সন্ধি সর্ম্পকে ধারণা থাকতে হবে। মানুষের শরীরে বহু জয়েন্ট বা জোড়া রয়েছে এবং এই সব জোড়া তিন প্রকার আর এসব জোড়ায় যদি কোন ভাবে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন হয় তখন আমরা ডাক্তারী ভাষায় আথ্রাইটিস বলে থাকি। আমাদের বাংলাদেশে আথ্রাইটিসে আক্রান্ত হলে অনেকে একে বাত রোগ বলে থাকে।

 

প্রশ্নঃ আথ্রাইটিস হলে আমরা কিভাবে বুঝব রোগী আথ্রাইটিসে আক্রান্ত হয়েছেন?

উত্তরঃ প্রথমেই বলব ব্যথা, এক বা একাধিক জোড়ায় ব্যথা হবে। জোড়া ফুলেযেতে পারে, গরম হতে পারে, নড়া চড়ায় ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে পারে, রোগীর দৈনন্দিন কাজকর্ম, চলাফেরায় অসুবিধা হবে। অনেক সময় জ্বরও আসতে পারে, পাশা-পাশি শরীর ক্লান্ত বোধ, অবসাদ, হতাশা, অনিদ্রা দেখা দিতে পারে। এভাবে চলতে থাকলে আস্তে আস্তে রোগী তার দেহের জোড়ার কর্ম ক্ষমতা বা নড়াচড়ার ক্ষমতা হারায় এবং জোড়া সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে রোগী পঙ্গুত্ব বরন করতে পারে। অনেক সময় দীর্ঘদিন রোগেভোগে শরীরের মাংস পেশী গুলোও শুকিয়ে যেতে পারে।

 

প্রশ্নঃ আথ্রাইটিস কত প্রকার?

উত্তরঃ আথ্রাইটিস একশত এরও বেশী প্রকার। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে। অস্টিওআথ্রাইটিস, রিউমার্টয়েড আথ্রাইটিস, এনকাইলজিং স্প্যান্ডালাইটিস, গাউট, জুভেনাইল আথ্রাইটিস যা বাচ্চাদের হয়, সোরিয়াটিক আথ্রাইটিস, রি-একটিভ আথ্রাইটিস, সেপটিক আথ্রাইটিস, স্কে¬রোডারমা, এস এল ই, তাছাড়া অন্যান্য রোগের কারণেও আথ্রাইটিস হতে পারে।

 

প্রশ্নঃ আথ্রাইটিস কাদের এবং কোন বয়সে বেশি হয়?

উত্তরঃ আথ্রাইটিস সাধারণত বয়স্কদের বেশি হয়। তবে বাচ্চাদেরও হয়ে থাকে। যে কোন বর্ণের যে কোন বয়সে যে কোন সংস্কৃতির মানুষের আথ্রাইটিস হতে পারে। তবে পরুষদের তুলনায় মহিলাদের আথ্রাইটিস বেশী হয়।

 

 

প্রশ্নঃ আথ্রাইটিস রোগের চিকিৎসা ও প্রতিকার কি?

উত্তরঃ আথ্রাইটিস জোড়ার রোগ ও বিভিন্ন প্রকার আথ্রাইটিস রয়েছে। যদি কারো এ জাতীয় সমস্যা হয় তা হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হব্ ।চিকিৎসক এ ক্ষেত্রে কিছু পরীক্ষা করাতে পারেন। যেমনঃ রক্ষ পরীক্ষা, সে রোজলী পরীক্ষা, এক্সরে পরীক্ষা, চিকিৎসক রোগী দেখেও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করে বুঝতে পারেন যে রোগীর কি জাতীয় আথ্রাইটিস হয়েছে। আথ্রাইটিসের প্রকার ভেদে কিছু ঔষধ খেয়ে যেতে হয়। যেমনঃ ব্যথা নাসক এন এস এ আই ডি এস, ডিজিজ মডিফাইং ঔষধ, আথ্রাইটিসে ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত কার্যকরী চিকিৎসা। এতে অনেকাংশে রোগীর সমস্যা, ব্যথা-বেদনা দুর হয় এবং রোগী স্বাভাবিক চলাফেরা কাজকর্ম করতে পারেন। ফিজিও থেরাপিতে ইলেকট্রোমেগনেটিক রেডিয়েশন, আলট্রাসাইন্ড থেরাপি, ইন্টারফেরেন সিয়াল থেরাপি বিভিন্ন কৌশল গত ব্যায়াম, মেনূয়্যাল থেরাপি প্রয়োগের মাধ্যমে রোগীর সমস্যা বহুলাংশে লাঘব হয় ও অস্থি সন্ধি স্বাভাবিক তার কর্মক্ষমতা ফিরে পায় ফলে রোগী আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। তবে তার জন্য অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের শরানাপন্ন হতে হবে। অনেক সময় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার পাশাপাশি বিভিন্ন অর্থোসিস এর প্রয়োজন হতে পারে। ঠান্ডায় আথ্রাইটিসের ব্যথা ও সমস্যা বেড়ে যায় তাই ঠান্ডা থেকে দূরে থাকতে হবে। কুসুম গরম পানির সেকে ব্যথা নিরাময়ে কার্যকরী চিকিৎসা, কুসুম গরম পানিতে গোসল করা যেতে পারে। চিকিৎসকের নির্দেশমত ব্যায়াম নিয়মিত করতে হবে। নিয়মিত হাটা চলাফেরা করতে হবে। অত্যাধিক পরীশ্রম করা যাবে না, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে ওজন বেশী হলে ওজন কমাতে হবে, খাদ্য তালিকায় চর্বি ও আমিষ জাতীয় খাবারের পরিমান কমাতে হবে, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি আথ্রাইটিস রোধে ভাল ভূমিকা পালন করে। তাই ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি বাজার থেকেও কিনে খাওয়া যেতে পারে। দুধ, ডিম, মাছের কাটা, হাড় গোড়ে, বিভিন্ন ফলমূল ও শাকসব্জিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে তা খেতে হবে, লাইফ ইস্টাইল পরিবর্তন করতে হবে, নীচু জিনিস যেমন পিড়া বা ফ্লোরে অনেক্ষন বসে থাকা যাবে না, অত্যাধিক ভাড়ী বোঝা বহন করা যাবে না, অনেকক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাড়িয়ে থাকা যাবে না। ফোম বা জাজিমের বিছানায় শোয়া যাবে না, মদ্যপান ও ধূমপান বা তামাক জাতীয় কিছু গ্রহন করা সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ।

 

ডা. মোঃ সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগঃ-ডিপিআরসি হাসপাতাল( ২৯ প্রবাল হাউজিং,রিং-রোড,শ্যামলী,ঢাকা-১২০৭)
সিরিয়ালের জন্য ফোনঃ-  +8801997702001; +8801997702002
www.dprcbd.com
www.bdtodays.com
www.shafiullahprodhan.com
www.medicalbd.info
www.dhakatv.info

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 2 =